ফের বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার CAA বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে অসমের গুয়াহাটি আসেন রাহুল। সেখানেই বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।

রাহুলের কথায়, “বিজেপি-আরএসএস অসমকে নিয়ন্ত্রণ করবে এটা কংগ্রেস হতে দিতে পারে না। এরাজ্যের মানুষই রাজ্যর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকবে।” কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, “বিজেপি অসমের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষাকে ধ্বংস করছে।” এদিন রাহুলের বক্তব্যে অসম চুক্তির কথাও উঠে আসে। বলেন, “অসম চুক্তি লঙ্ঘন করা উচিত হয়নি। ওই চুক্তির মাধ্যমেই অসমে শান্তি ফিরেছিল।”
শনিবার ছিল কংগ্রেসের ১৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষ্যে দিল্লির দলীয় কার্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে মোদি সরকারকে বিঁধেছিলেন রাহুল। দেশের অর্থনীতির হাল নিয়েও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় ওয়ানাড়ের সাংসদকে। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপির কিছু বন্ধুদের পকেটে অর্ধেকের বেশি টাকা ঢুকছে। সাধারণ মানুষ কোনও সুবিধা পাচ্ছে না।” এরপরই তিনি অসমের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। প্রসঙ্গত, NRC বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল অসম। সহিংস আন্দোলনে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ছয় প্রতিবাদীর। এই পরিস্থিতিতে শনিবার অসমে এলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। উত্তপ্ত অসমে এই প্রথমবার যাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা। তবে তাঁর সফরের আগে NRC-কে ‘দ্বিতীয় নোটবন্দী’ বলে কটাক্ষ করলেন রাহুল। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ দেশের নোটবন্দীর চেয়েও বেশি ক্ষতি করবে গরিবদের। 
গুয়াহাটির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাহুল অভিযোগ করেন, “বিজেপি মানুষের কথা শোনে না।” এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা বলেন, “বিজেপি যেখানেই যায় শুধু হিংসা ছড়ায়। সারা দেশে যুবরা প্রতিবাদ করছে। বিজেপি তা দেখতে পাচ্ছে না। বরং গুলি চালিয়ে আন্দোলন থামাতে চাইছে।” একইসঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, “বিজেপি ভুলভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। ভালবেসেও জনতার কথা শোনা যায়। কিন্তু বিজেপি ওঁদে্র চুপ করিয়ে রাখতে চাইছে।” এদিন দেশজুড়ে একের পর এক অনুষ্ঠানে বিজেপিকে কার্যত তুলোধনা করে বিজেপি।