ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র নাঈমুল আবরার রাহাতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। খবর ইউএনবি’র।

বৃহস্পতিবার তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী ওবায়েদ আহমেদের পক্ষে আইনজীবী ফয়জুর রহমান এই রিট করেন।

রিটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য সচিব, শিক্ষা সচিব, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডেসা), দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশক, সম্পাদক এবং সাময়িকী কিশোর আলোর সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী ফয়জুর রহমান জানান, প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার জন্য প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বাকি বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে তিনি রিটটি দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন। আগামী রবিবার (১৭ নভেম্বর) আবেদনের শুনানির জন্য উপাস্থাপন করা হবে বলেও জানান আইনজীবী।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম আলোর ম্যাগাজিন কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবরারের মৃত্যু হয়। এরপর গত ৩ নভেম্বর আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিট করা হয়।

মঈনুল আবরার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে দৈনিকটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৬ নভেম্বর মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা মো. মুজিবুর রহমান। পরে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. আমিনুল হক ময়নাতদন্তের জন্য আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। পরে গত ৯ নভেম্বর নাঈমুল আবরার রাহাতের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম।