আম্পায়ারদের সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণের কারণে জরিমানা গুনতে হচ্ছে নাসির হোসেন এবং নাজমুল ইসলাম অপুকে। অভিযোগ আছে, তাদের আউটের আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় তারা দুজনই আম্পায়ারকে গালিগালাজ করেছেন। ঘটনাটি তারা ঘটিয়েছেন চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) মাত্রই শেষ হওয়া দ্বিতীয় রাউন্ডে। ফলে তাদের জরিমানা করেন ম্যাচ রেফারি সামিউর রহমান। এতে করে জাতীয় দলের এক সময়ের নিয়মিত ও জাতীয় লিগে রংপুর বিভাগের অধিনায়ক নাসির হোসেনকে গুনতে হচ্ছে ম্যাচ ফি’র ২৫ শতাংশ জরিমানা। আর ঢাকা বিভাগের বাঁ হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে গুনতে হবে ২০ শতাংশ।

জানা গেছে, রোববার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগের জয় রাজ শেখ ইমনের বিরুদ্ধে এলবিডাব্লিউ’র আবেদন করেন রংপুরের লেগ স্পিনার তানভির হায়দার। কিন্তু রিজার্ভ আম্পায়ার আসাদুর রহমান তার সেই আবেদনে সাড়া দেননি। তাই রেগেমেগে অধিনায়ক নাসির প্রথমে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং এক পর্যায়ে গালি দেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রিজার্ভ আম্পায়ার আসাদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘হ্যা, ঘটনা সত্যি। আমি নিয়ম অনুযায়ী ঘটনাটি ম্যাচ রেফারিকে জানিয়েছি। তিনিই ব্যবস্থা নিবেন।‘ তবে দুঃখজনক হলো, নাসির হোসেন বিষয়টিকে তেমন গুরুতর মনে করছেন না! তার ভাষ্যমতে এমন ঘটনা মাঠে ঘটতেই পারে! ‘আসলে তেমন কিছুই হয়নি। আমি আবেদন করেছিলাম। এরপর সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। মাঠে এমন ছোট ছোট ঘটনা ঘটেই। আমি দুঃখিত।‘

নাসিরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে। তিনি নাকি মজার ছলে এক ওভারে তিনটি করে স্পিন ও তিনটি করে পেস বল করেন। যা মোটেই ভাল চোখে দেখছে না দলটি। ‘নাসির একই ওভারে তিনটি স্পিন ও তিনটি পেস বল করেছেন গত ম্যাচে। আমরা আসলে বিষয়টি ভালোভাবে নেইনি। কোচও ভালভাবে নেয়নি। একই ওভারে দুই ধরণের বল করা অবৈধ নয়। কিন্তু এই গুলো পাড়ামহল্লাতেই বেশি দেখা যায়। জাতীয় ক্রিকেট লিগের মত সিরিয়াস ম্যাচে মজা করে এমন বল করা ঠিক নয়।‘

এদিকে ঢাকা বিভাগের বাঁ হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, রংপুর বিভাগের ব্যাটসম্যান জাহিদুল হকের বিপক্ষে তার এলবিডাব্লিউ’র আবেদনে ফিল্ড আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় তিনি আম্পায়ারের সঙ্গে দূর্ব্যহার করেন। অবশ্য গালি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নাজমুল অপু। ‘নিশ্চিত আউট ছিল। কিন্তু আম্পায়ার দেননি। তাই একটু রেগে গিয়েছিলাম। তবে আমি কোনো গালি দেইনি।‘