হেফাজতে ইসলামের আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন আলেমরা।

শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা এবং দোয়া মাহফিল থেকে এ দাবি জানান তারা। এ সময় হাটহাজারী মাদ্রাসার সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভকে বহিরাগত উসকানি আখ্যায়িত করে এটিরও বিচারের দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মোহা. ওয়াক্কাস।

তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। কোনো সন্দেহ নেই এর মধ্যে আমার।একটি শক্তি হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যার পরিণতিতে আহমদ শফী সাহেবের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। যেটা বলব- অস্বাভাবিক মৃত্যু, স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না।

পুরো বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, যদি এটি বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে পুরো কওমি অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। আল্লামা শফীর এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। এর জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই।

অনুষ্ঠানে আল্লামা শফীর জীবনের শেষ দুইদিনের ঘটনাবলী ও হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি’ করে ৮ দফা প্রস্তাবনা আকারে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

ঘোষণাপত্রে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও আল্লামা শফীর শেষ জীবনে কিছু ছাত্রদের হাতে নিজ কক্ষ ভাংচুর হতে দেখা, জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিবাদ করা হয়েছে।

দেশের শীর্ষ একাধিক আলেম ও আল্লামা শফীর খলিফাদের পক্ষে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, হাটহাজারী মাদ্রাসার এ ঘটনার পর কিছু মানুষ সারা দেশে একটি উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন। ‘হাটহাজারী স্টাইলে’ সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোতে তারা বিপ্লবের আহ্বানও জানিয়েছেন। এ ছাড়া দেশবরেণ্য আলেমদের ব্যাপারে সরাসরি বক্তৃতাসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে উসকানি দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব ও ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল আমিন, জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মিরপুর পল্লবী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ওলামানগরের পীর মাওলানা মুখলেছুর রহমান কাসেমী, জাতীয় ইমাম সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা ও বকশিবাজার মসজিদের খতিব মাওলানা যুবায়ের, ইসলামী ঐক্য মঞ্চের সভাপতি মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিম, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী প্রমুখ।