নিজ কক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীর ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। ওই ছাত্রীর নাম উলফাত আরা তিন্নি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

গককাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।  তিন্নি ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানাধীন যোগীপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফের মেয়ে। যোগীপাড়ায় স্থায়ী নিবাস হলেও তিন্নি তার বোন ও মাকে নিয়ে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন নিজেদের দোতলা বাসায় থাকেতেন।

প্রতিবেশীরা জানায়, রাত ১২টার দোতলায় তিন্নিকে ডাকতে গেলে ভেতর থেকে ছিটকানি দেওয়া থাকে। বেশকিছুক্ষন ডাকাডাকির পর ভেতর থেকে কোনো সারা শব্দ না আসলে ছিটকানি ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে তিন্নির মা ও বড় বোন।

কক্ষে ডুকে তিন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তারা। পরে সেখান থেকে শেখপাড়া বাজারে টহলরত শৈলকুপা থানার পুলিশের গাড়িতে করে কুষ্টিয়ার দিকে রওয়ানা হন। গাড়িটি বিত্তিপাড়া পৌছাঁলে তিন্নি মারা যান বলে জানা যায়।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে তিন্নিকে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে কুষ্টিয়ার সদর থানা পুলিশের অধীনে সদর হাসপাতালে তিন্নির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, রাতে বড় বোনের সাবেক স্বামী ও তার তিন সহযোগী জোরপূর্বক তিন্নিদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এ সময় তিন্নির ঘরে ঢুকে তার সঙ্গেও খারাপ আচারণ করে। এই অভিমান ও অপমানে তিন্নি আত্মহত্যা করে।

তিন্নির বড় বোন মিন্নি সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার তিন্নী তার এক বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া যায়। রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে আসে সে। প্রথমে রাত ১০টার দিকে সাবেক স্বামী জামিরুল ও তার তিন সহযোগী বাড়িতে হামলা চালায়।

এরপর রাত ১১টার দিকে জামিরুল সহযোগীসহ আবারো তাদের বাড়িতে আসে। তাদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয় জামিরুল। সহযোগীদের বাইরে রেখে জোর করে তিন্নীর শোবার ঘরে প্রবেশ করে সে।

এ সময় তিন্নির কান্না শুনে বাড়ির নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠার চেষ্টার করেন মিন্নি। কিন্তু জামিরুলের সহযোগীদের বাধায় নিচে নেমে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর জামিরুল চলে গেলে রাত ১২টার দিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেয় তার বোন।

বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তিন্নীকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মিন্নির অভিযোগ, জামিরুল তার বোনের শ্লীলতাহানি করায় সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবারে পক্ষ থেকে শুরুতে থানা পুলিশকে তিন্নিকে হত্যার অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে তারা তাদের অভিযোগের ভাষা পরিবর্তন করে আত্মহত্যার অভিযোগ করেন।

তিন্নির সহপাঠী ও স্থানীয় অনেকে বিষয়টি রহস্যজনক এবং হত্যার ঘটনা বলে ধারণা করছে। তিন্নিকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

শৈলকুপা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মহসিন জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সদস্যরা ভিক্টিমকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরে রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারি আমরা। নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে জানা যাবে।

এদিকে তিন্নির এ মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন তিন্নির সহপাঠীরা। তিন্নির মৃত্যুর ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানিয়ে বিকেলে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে মানববনন্ধন করছেনে তার সহপাঠীরা।