কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান শিমুলের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে সারাদেশ জামাত শিবিরে ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াও এবং নাশকতার সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এই শিমুল। এমনকি ফার্মগেট এলাকার রাজাবাজারের একটি মেসে থাকা অবস্থায় শিবিরের বইসহ তাকে আটকও করা হয়েছিল। এছাড়া পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর মামলার আসামি থেকেও শিমুল সুকৌশলে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছে স্থানীয় একজন কাউন্সিলরের মদদপুষ্ট হয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালের নভেম্বরের ১০ তারিখে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের উপর হামলা, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনারের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর, রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি এবং নাশকতা ও জ্বালাও-পোড়াও মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন শিমুল। ২০১২ সালে ১০ নভেম্বর করা এই মামলার নং ৩২ নতিতে দেখ ২৬ নং (পরবর্তীতে ১৭) আসামি আব্দুর রহমান শিমুল দেখা গেছে। শিমুলের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় তার বাবার নাম হাজী সেলিম।

সূত্র জানিয়েছে, স্কুলজীবন থেকেই সক্রিয় ভাবে শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন শিমুল। ২০১২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন শিমুল। ঢাকায় প্রথমে এসে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ছাত্রদলের নেতা তার বড় ভাইয়ের সাথে কলেজ হোস্টেলে ছিলেন। পরে তিনি রাজাবাজারের একটা মেসে থাকতেন। ২০১৩ সালে জামাত শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে মেস ও ব্যাচলর তল্লাশিতে জিহাদি বইসহ শিমুল কে পান কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় তিনি বিভিন্ন কৌশলে ওই সময়ের ঢাকা মহানগর উত্তরের এক নেতার লবিং ছাড়া পান। এরপর তিনি ওই সময়ের কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাথে সখ্যতা তৈরি করেন। নিজেকে সেভ রাখতে তার মেস থেকে ছেলে পেলে নিয়ে প্রোগ্রাম করে ছাত্রলীগের পথচলা শুরু করেন। ২০১৩ সালে কয়েক মাসের ব্যাবধানে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অবিশ্বাস্য ভাবে দপ্তর সম্পাদক পদ পান। পরে তিনি সেই পদকে সহ-সভাপতি হিসাবে প্রচার করেন।

২০১৫ সালের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় তিনি কলাবাগান থানার ১৭ নং ওয়ার্ডের কমিশনারের প্রচারণায় হামলার শিকার হন বলে দাবী করেন। এই সময় শিমুল কমিশনার এর কাছে লোক হয়ে যায় এবং তার মাধ্যমে ঢাকা ১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সাথে ছাত্রলীগ নেতা হিসাবে পরিচিত হন। ২০১৭ সালে এপ্রিলে কলাবাগান ধানমন্ডি হাজারীবাগ ও নিউমার্কেট থানা ছাত্রলীগের সম্মেলনে কলাবাগান থানার সভাপতি পদপ্রার্থী হন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ এই চার বছরে বিভিন্ন কৌশলে কলাবাগান এলাকায় পুরদোস্তর ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে শিমুল নিজের পরিচয় ফুটে তোলেন। ফলে ২০১৮ সালে হওয়া কলাবাগান থানার নতুন কমিটিতে বিভিন্ন কৌশলে সভাপতি হন। এর মধ্যে শিবির এর সাথে যুক্ত থাকা এবং জ্বালাও-পোড়াও ও নাশকতা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি হওয়ার খবর প্রকাশ পাওয়ায় কলাবাগান থানা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিব্রত।

এ বিষয়ে শিবির থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান শিমুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সূত্র : ভোরের পাতা