ভোলার মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। এদের মধ্যে ভোলা সদরের রাজাপুর, ভেদুরিয়া, ইলিশা, বোরহানউদ্দিনের হাকিমউদ্দিন, মির্জাকালু, জয়া, চরফ্যাশনের কুকরি মুকরি, ঢালচর, পাতিলা ও দৌলতখান, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও লালমোহন উপজেলার পুরো এলাকার মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীতে রাতের আঁধারে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে।

ভোলার রাজাপুরের জেলেদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল সব জেলে না পাওয়ায় ও মহাজন এবং এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপে তারা রাতের আঁধারে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে মা-ইলিশ শিকার করতে বাধ্য হচ্ছে।

তারা জানান, অনেক কষ্ট করে রাতের আঁধারে মা-ইলিশ শিকার করে গোপনে বিক্রি করেন। আগের চেয়ে অনেক কম দামে এ ইলিশ বিক্রি করছেন তারা। ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ হালি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার একটু বেশি ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩০০ টাকা।

এদিকে মা-ইলিশ অভিযানের ২২ দিন পর্যন্ত সব ব্যাংক ও এনজিওকে ঋণের কিস্তি না নেয়ার জন্য ভোলা প্রশাসন থেকে চিঠি দেয়া হলেও তা মানছেন না অনেক এনজিও বলে অভিযোগ জেলেদের।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, আমরা মা-ইলিশ অভিযান এ বছর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এছাড়া এনজিও ও ব্যাংকগুলোতে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কিস্তি না নেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। তবে কোনো ব্যাংক বা এনজিও যদি আমাদের নিষেধ অমান্য করে তাহলে আমরা তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।