মানসিক ভারসাম্যহীন বলে এক বছর ধরে স্ত্রীকে টয়লেটে আটকে রেখেছে স্বামী। এমন বর্বর ঘটনা ঘটেছে ভারতের হরিয়ানার রিশপুর গ্রামে। সম্প্রতি ওই নারীকে উদ্ধার করেছেন নারী সুরক্ষা ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মকর্তা রাজনি গুপ্ত এবং তার টিম।

ওই নারীকে তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে টয়লেটে আটকে রেখেছেন এমন অভিযোগের কথা জানতে পেয়েছিলেন রাজনি গুপ্ত। পরে বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

রাজনি গুপ্ত বলেন, ‘এক বছর ধরে ওই নারীকে টয়লেটে বন্দি করে রাখা হয়েছে এমন খবর পেয়েছিলাম। আমি আমার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা দেখতে পাই যা শুনেছি সেটাই সত্যি। ওই নারীকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি অনেকদিন ধরে ঠিকমত খেতেও পাননি।’

তিনি বলেন, ‘ওই নারীকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হয়েছে। কিন্তু এটা সত্যি না। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তার কথাবার্তায় তাকে অসুস্থ মনে হয়নি। তবে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে তিনি আসলেই মানসিক ভারসাম্যহীন কীনা।’

ওই নারীকে টয়লেট থেকে উদ্ধার করে তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামীর দাবি তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। রাজনি গুপ্ত বলেন, ওই নারীকে বেরিয়ে আসতে বলা হলেও তিনি আসেননি। তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজনি গুপ্ত ওই গ্রামে গিয়ে বন্দি অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধার করেছেন। তার স্বামী নরেস তাকে এক বছর ধরে আটকে রেখেছিলেন। আমরা একটি অভিযোগ দায়ের করেছি এবং তদন্ত করে এই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা চিকিৎসকদের পরামর্শ নেব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’