বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) কাদের খানসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চন্দন দাস পলাতক রয়েছেন। তিনি পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

রায়ে আদালত জানান, প্রধান আসামি কাদের খান হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। কাদের খানসহ বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দোতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান আদালত।

আসামিদের মধ্যে শুধু সুমন কসাই জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাকে এই রায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এ রায়ে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন নিহত এমপি লিটনের স্ত্রী।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে ১ জানুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরপর ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিকালে বগুড়া জেলা শহরে কাদের খাঁনের পরিচালিত গরীব শাহ ক্লিনিক থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরেরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি লিটন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। রিমান্ডের চতুর্থ দিনের মাথায় কাদের খান আদালতে ১৬৪ ধারায় লিটন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর থেকে কাদের খান গাইবান্ধা কারাগারে আছেন।