সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি। তাঁরা হলেন—অর্জুন লস্কর, সাইফুর রহমান ও রবিউল ইসলাম।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে তাঁরা দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে শাহ পরান থানা পুলিশ। আসামিদের মধ্যে অর্জুন লস্কর ও সাইফুর রহমান সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত-১-এর

বিচারক মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে এবং রবিউল ইসলাম সিলেট মহানগর হাকিম আদালত-২-এর বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্জুন ও সাইফুর তাঁদের জবানবন্দিতে ওই তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ঘটনার পুরো বিবরণও দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কোথায় কী ঘটেছে, তাও তাঁরা জানিয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়। পু

লিশ ও র‌্যাব মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে তিন দফায় সবাইকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় রিমান্ডে নেওয়া তিনজনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়।

আজ শনিবার অন্য তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যাঁদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয় তাঁরা হলেন—মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, আইনুদ্দিন ও রাজন। এঁদের মধ্যে প্রথম চারজন এজাহারভুক্ত আসামি।