উপসাগরীয় দেশ ওমানে শপিং মল ও পাবলিক প্লেসে স্লিভলেস শার্ট ও শর্টস পরে উপস্থিতির জন্য ৩০০ রিয়াল পর্যন্ত জ’রিমানা ও এর সাথে তিন মাস পর্যন্ত জে’লও হতে পারে।

প্রকাশ্যে চলাফেরার সময় জনগণের জন্য অ’শালীন পোষাক বন্ধ করে শালীন পোশাক পরার ক্ষেত্রে এমন বিধি আনা হচ্ছে বলে দেশটির ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ওমানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য এই নিয়ম এনেছে মাস্কাট পৌর কমিটি। এরই মধ্যে কমিটি জমা দিয়েছে পৌর কাউন্সিলে, যা অনুমোদনের জন্য রয়্যাল কোর্টের দিওয়ানের মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।

টাইমস অব ওমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতাকারে মাসকট প্রদেশের পৌর কাউন্সিলের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান কাইস বিন মোহাম্মদ আল মাশারী বলেন, “শালীন পোশাক পরিধানের শর্তগুলি খুব বিশদভাবে নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে কাঁধ থেকে হাঁটুর নিচে পর্যন্ত শরীর ঢেকে রাখতে হবে। এছাড়া কোনও সংবেদনশীল অংকন বা চিত্রণ বা ছবি ব না রেখে শালীনতার শর্তাদিও বজায় রাখতে হবে”।

স্লিভলেস শার্ট এবং শর্টস মতো পোশাকগুলি অবশ্যই শরীরের প্রয়োজনীয় অংশগুলি সঠিকভাবে আবৃত করে না, তাই এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে, পুরুষ এবং মহিলাদের হাঁটুর ওপরে শর্টস পাশাপাশি স্লিভলেস শার্টগুলি যা বুক এবং কাঁধকে ফুটিয়ে তোলে, তা পরার অনুমতি দেওয়া হবে না”, তিনি যোগ করেন।

ওমানি ও প্রবাসীসহ সকল বাসিন্দাদের জন্য বিধি একই রকম হবে উল্লেখ করে আল মাসাহারী বলেন, “আমাদের নিশ্চিত করা দরকার যে পরিধান করা পোশাকগুলি যেন শিষ্টাচার রীতিকে ভঙ্গ না করে। সুতরাং, এই সিদ্ধান্তে বৈষম্যহীনভাবে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শালীন পোশাক পরিধানের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মগুলি খসড়া করা হয়েছিল রাজধানীর পৌর কমিটিগুলির অভিমতের ভিত্তিতে পাশাপাশি মল পরিচালক এবং দোকান মালিকরা সঠিক পোশাক কোড অনুসরণ না করা সম্পর্কে জনসাধারণের কাছ থেকে অনেক অভিযোগ পেয়েছেন।

রয়েল ডিক্রি 7/2018 দ্বারা জারি করা ওমানয দণ্ডবিধি আইনের ২৯৪ অনুচ্ছেদে, যারা জনসাধারণ্যে ভদ্রতা লঙ্ঘন করে এমনভাবে প্রকাশ্য স্থানে উপস্থিত হন এবং সমাজের ঐতিহ্য ও রীতিনীতিগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হন, তাদের এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত জেল এবং/অথবা ১০০ থেকে ৩০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা এই বিধি লঙ্ঘনকারীদের জন্য শাস্তি আরোপের ক্ষেত্রে ওমানি দণ্ডবিধির উপর নির্ভর করেছি। দণ্ডবিধিতে বলা হয়েছে যে বিষয়টি জনসাধারণের নৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত বলে মন্ত্রণালয়ের এই বিষয়ে বিশেষ আইন নেই।”

আল মাসাহারী যোগ করেছেন, “কমিটির সুপারিশগুলি ২০২০ সালের অক্টোবরে তার পরবর্তী সভার জন্য পৌর কাউন্সিলকে জমা দেওয়া হয়েছে। এর পরে, কাউন্সিল এটি রয়্যাল কোর্টের দিওয়ানের মন্ত্রীর কাছে জমা দেবে, এবং একবার অনুমোদিত হয়ে গেলে, এটি একটি আইন হিসাবে বিবেচিত হবে এবং এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থদের সেই অনুযায়ী সমাধান করা হবে।

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000