মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে প্রকাশিত হয়েছে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল।

এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন সাতক্ষীরার তৌফিকা রহমান নেহা। তার টেস্ট স্কোর ৮৯।

গত ১১ অক্টোবর সারাদেশে একযোগে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় সরকারি-বেসরকারি মেডিকেলে ১০ হাজার ৪০৪ আসনের বিপরীতে অংশ নেন ৬৯ হাজার ৪০৫ শিক্ষার্থী।

আর সেই ৬৯ হাজার ৪০৫ জনকে হারিয়ে প্রথম হয়েছেন রাগীব নূর, দ্বিতীয় হয়েছেন তৌফিকা রহমান নেহা আর তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন ঢাকার ডেমরা শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থী সুইটি সাদেক।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তৌফিকা রহমান নেহা। তবে ঠিকমতো কলেজেই আসা হতো না নেহার। ঠিকমতো ক্লাস না করেও এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলে দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি।

বিষয়টি অভিনব বলে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কাজী আসাদ।

নেহার এমন কৃতিত্বের বিষয়ে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তৌফিকা রহমান নেহা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে এ কলেজে গৌরব এনে দিয়েছে। যদিও এমন অর্জনে তারই কৃতিত্ব বেশি। কারণ কলেজে নেহার উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যায়নি। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, ঠিকমতো ক্লাস না করেও দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নেহা। খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী সে। কলেজে নেহা কেন কম আসত প্রশ্নে ওই শিক্ষক জানান, শুধু নেহা নয়, বিজ্ঞান বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কলেজে আসতে চায় না। তবে নেহা কেন আসত না এটি সে ও তার পরিবারই বলতে পারবে।

নেহার এমন ফলে আনন্দের বন্যা বইছে তার পরিবারে।

জানা গেছে, শিক্ষানুরাগী পরিবারের মেয়ে তৌফিকা নেহা। নেহার বড় ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। নেহার বাবা শেখ হাফিজুর রহমান সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা। সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোড মোড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই থাকেন নেহা। নেহার মায়ের নাম নাজমা সুলতানা। তিনি একজন গৃহিণী।

এমন ফলে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তৌফিকা রহমান নেহা বলেন, এর চেয়ে বড় খুশির সংবাদ আর কিছুই হতে পারে না। চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাব এর চেয়ে খুশির সংবাদ আর হতেই পারে না।

ভালো ডাক্তার হওয়ার আগে ভালো মানুষ হয়ে দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান নেহা।

নিজের বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষার্থীর এমন কৃতিত্বে খুশি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, শুনেছি মেডিকেলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছে আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী নেহা। তবে ঠিকমতো ক্লাসে না আসায় তার বিষয়ে বিস্তারিত জানি না আমি। ও যে খুবই মেধাবী তাতো ওর এমন ফলেই বোঝা যাচ্ছে। আশা করছি অনেক বড় ডাক্তার হবে সে। এ বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন রংপুরের রাগীব নূর অমিয়। তার টেস্ট স্কোর ৯০.৫০। রংপুর পুলিশলাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও রংপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন রাগীব।

এসএসসিতে দিনাজপুর বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিলেন রাগীব।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রাগীব নূর অমিয় বলেন, ফল পেয়ে ভীষণ খুশি আমি। আমার এমন ফলের পেছনে মা-বাবাসহ শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানবতার সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই। এ ছাড়া মেধা তালিকায় ৩য় স্থান অধিকার করেছেন রাজধানীর ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করা সুইটি সাদেক। তার টেস্ট স্কোর ৮৫.৫০।

সুইটি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সাদেক আলী ও খালেদা বেগমের সন্তান।

উল্লেখ্য, এবারের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৬৯ হাজার ৪০৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৯ হাজার ৪১৩ জন। এদের মধ্যে মেয়ে ২৬ হাজার ৫৩১ জন। ছেলে ২২ হাজার ৮৮২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে ২২ অক্টোবর। শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। সরকারি মেডিকেলে ভর্তি শেষ হওয়ার পর বেসরকারি মেডিকেলগুলোতে ভর্তি শুরু হবে।