কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বাবু মিয়া অপু (১৭) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজ সোমবার ভোরে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অপু শহরের জগন্নাথপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। সে একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আজ দুপুরে র‌্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ভৈরব ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, চাঞ্চল্যকর এই কিশোরী গণধর্ষণের পর তারা গোপনে তৎপরতা চালায়। এতে করে গণধর্ষণে জড়িত অন্যতম এই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। এ ঘটনার সঙ্গে অপুসহ আরও চারজন জড়িত। বাকিদেরও খুব শিগগিরই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন তারা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বরাত দিয়ে র‌্যাব আরও জানায়, ঘটনার দিন কিশোরীর সঙ্গে বাসে নরসিংদী থেকে সখ্যতা গড়ে তোলে অপুদের চক্রের এক সদস্য। পরে ভৈরব নামার পর তাকে সিলেট যাওয়ার বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় এবং অন্য চার সহযোগীকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে নিয়ে তারা কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। একপর্যায়ে কিশোরী জ্ঞান হারায়। তখন তারা পাশের দোকান থেকে পানি এনে চোখে-মুখে ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আবারও ধর্ষণ করে।

র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, মামলায় চারজনের কথা উল্লেখ করা হলেও ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন কিশোর অংশ নিয়েছে। একজনকে ধরতে সক্ষম হয়েছি। পাঁচজন আসামির প্রত্যেকেই ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য।

গত ১৫ জানুয়ারি রাতে ভৈরবের তাঁতারকান্দি এলাকায় রেললাইনের পাশে গণধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তার খালা বিলকিছ বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত চারজনকে অভিযুক্ত করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

১৮ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের আদালতে ২২ ধারায় ভুক্তভোগী কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক। বর্তমানে সে গাজীপুরের কোনাবাড়ি কিশোরী উন্নয়নকেন্দ্র আছে।