ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিমবাজারে। এখানে একটি ব্রিজ থেকে নিজের কোলের শিশুকে পানিতে ফেলে দেয়, তার নিজের মা। শিশুটি পানিতে পড়ে হাবুডুবু খেতে থাকে। পরে অবশ্য এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষকারী পথচারী ঐ শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে।

জীবিত উদ্ধার শিশুটি এখন এক দম্পতির কাছে আছে। তারা হলেন রফিকুল ইসলাম এবং এলিনা দম্পতি। এই দম্পতি বর্তমানে শিশুটির ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। এলিনা শিশুটিকে তার বুকের দুধ পান করানোও শুরু করে দিয়েছেন। শিশুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। তবে শিশুটির আসল মা এখনো পলাতক আছে।

এলাকাবাসীদের থেকে জানা যায়, শিশুটির মা জমিলা তার বাবার বাড়িতে থাকত। ঘটনার দিন সকালে জমিলা দুই কেজি চাল লুকিয়ে বিক্রি করে শিশুর জন্য খাবার ও তেল সাবান কিনে আনলে তার বাবা রাগান্বিত হয়ে জমিলাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে।
এতে জমিলা খুবই হতাশ হয়ে পড়ে ও মনের দুঃখে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে ও বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাশিম বাজার সংলগ্ন একটি ব্রীজের উপর থেকে ২০ ফিট নিচে পানিতে ফেলে দেয়। এদিকে যারা শিশুটির ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন তারা বলেন, আমরা শিশুটির লালন পালন করতে চাই।

জমিলা বেগম বছর খানেক আগে দুই মাসের সন্তান শুশু জাহিদকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি রংপুর থেকে বিতাড়িত হয়। কারণ তাদের সংসারে মনোমালিন্য চলছিল। এরপর সে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের দরিদ্র পিতা জয়নাল মিয়ার বাড়িতে উঠে। বাপের বাড়িতে ছিল খুবই অভাব। আর এই অভাব অনটন থাকায় তার সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে প্রায় ঝগড়া হতো। সন্তানের খাবার এবং তার খরচ চালাতে মাঝে মধ্যে তাকে শারীরিক এবং মানষিক নির্যাতনও সহ্য করতে হত। আর এসব যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতেই সে তার নিজ সন্তানকে পানিতে ফেলে মেরে ফেলার চিন্তা করে।

এদিকে ঘটনা সচোক্ষে দেখা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকাল নয়টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে তিনি ওই পথে বাজারে যাচ্ছিলেন। এসময় ব্রিজটির উপরে উঠলে একটি মহিলাকে কিছু পানিতে ফেলতে দেখেন। কিছু পড়ার শব্দ শুনে নিচে তাকিয়ে দেখে একটি শিশু পানিতে ভাসছে আর তার হাত-পা নাড়াচ্ছে। এ ঘটনা দেখে আমি চিৎকার করলে স্থানীয় ফরিদুল ইসলাম এবং একজন পথচারী এগিয়ে এসে পানিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর আগুন জ্বালিয়ে তাপ দিয়ে শিশুটিকে সুস্থ্য করা হয়। এসময় ব্রিজের পাশের বাড়ির রফিকুল ও এলিনা বেগম দম্পতি শিশুটিকে তাদের কাছে নেন।

এরপর আরো জানা যায়, জমিলা বাবারা খুবই গরীব ছিল। জমিলার নানী ভিক্ষা করত আর তার বাবা ও ভাই মাঠে কাজ করত। জমিলা ও তার সন্তান তাদের কাছে বোঝা ছিল। তারা চাইত জমিলা চলে যাক। আর এর জন্য জমিলাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হত। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি, চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিয়ে ওই পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করতে বলেছি।