খালেদা জিয়ার সাথে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দেখা করতে যাবেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে৷ আর দেখা হলে জামায়াত ইস্যুই প্রাধান্য পেতে পারে৷ ঐক্যফ্রন্টের প্রভাবশালী কিছু নেতা মনে করেন, জামায়াতের কারণেই ঐক্যফ্রন্টকে চাঙা করা যাচ্ছে না৷

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আট জন নেতা৷ তারা কারাগারে আটক খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার আর্জি নিয়ে যান৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের দেখা করার অনুমতির আশ্বাস দিয়েছেন৷ তবে কবে এই দেখা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি৷ কারণ দেখা করার অনুমতি দেবেন কারা মহাপরিদর্শক৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তারা ১০ জনের একটি তালিকাও দিয়েছেন৷ ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বেই খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যাব৷ তাঁর শারীরিক খোঁজখবর নেয়াই মূল উদ্দেশ্য তবে রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা হবে৷ বিশেষ করে জামায়ত নিয়ে কথা হবে৷” তিনি জানান, ‘‘ড. কামাল ও আমি ছাড়াও আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ফ্রন্টের নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করবেন৷”

তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত নিয়ে ফ্রন্টে অস্বস্তি আছে৷ বিএনপিতো জামায়াতকে ছাড়ছে না৷  বিএনপি জাময়াতকে না ছাড়ার ফলে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে না৷ আন্দোলনতো আরো জোরদার করা দরকার৷ সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে৷ আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা হতে পারে৷ তবে দেখা করার দিনক্ষণ সরকারের দিক থেকে চূড়ান্ত করা হলে আমরা নিজেরা আলাপ করে আলোচনার বিষয় ঠিক করব৷”

এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের পূর্ব নির্ধারিত মহাসমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি৷ এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না ঐক্যফ্রন্ট৷ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা আইনগতভাবেই সমাবেশ করার চেষ্টা করছি৷ শেষ পর্যন্ত যদি সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার আমরা না পাই তাহলে আইনের বাইরে গিয়ে চেষ্টা করতে হবে৷

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের আন্তরিকতা নিয়েও বিএনপির মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন৷ বিশেষ করে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতদের শপথ না নেয়ার যে সিদ্ধান্ত ছিলো তা ড. কামাল হোসেনের গণফোরামই প্রথম ভঙ্গ করে৷ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদসহ তাদের নির্বাচিত দুই জন শপথ নেন৷ তারপর বিএনপির নির্বাচিতরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন৷ যদিও শেষ পর্যন্ত বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি৷ এই পরিস্থিতিতে বিএনপি থেকে ঐক্যফ্রন্টের গত বৈঠকে কোনো প্রতিনিধি যাননি৷ যদিও বিএনপি মহাসচিব টেলিফোনে বৈঠকে অংশ নেন বলে জানানো হয়৷

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ৷ এটাই অনেক কিছু ইঙ্গিত দেয়৷ তিনি এই বয়সেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এটা বিবেচনা করতে হবে৷”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা মূলত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দেখতে যাব৷ সুযোগ থাকলে রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা হবে৷ আমাদের কাছে এখন ঐক্যফ্রন্টই গুরুত্বপূর্ণ, অন্যকিছু নয়৷”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা বরাবরই খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছি৷ তাঁর মুক্তি আমাদের প্রধান দাবির একটি৷ আর আমরা মনে করি বাংলাদেশে জামায়াত নামে নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল নেই৷ তাই জামায়াত প্রশ্ন আর কোনো গুরুত্ব বহন করেনা৷ বিএনপি আমাদের শরিক৷ আমরা আমাদের শরিকদের নিয়ে ভাবছি৷”

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এখন খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার অপক্ষোয় আছেন৷ তিন-চার জনের গ্রুপ করে কয়েকটি গ্রুপে তারা দেখা করবেন৷ কারণ একসঙ্গে চারজনের বেশি দেখা করতে দেয়ার নিয়ম নেই বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ প্রথমেই দেখা করবেন ড. কামাল হোসেন৷

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া৷ তিনি আটক অবস্থায় এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন৷ ফ্রন্ট নেতারা সেখানেই তাকে দেখতে যাবেন৷

এ সংক্রান্ত আরও

                         

 

আরও সংবাদ