নির্বাচিত হলে রাজধানীর খাল ও খেলার মাঠগুলোকে দখলমুক্ত ও উপযুক্ত করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী- ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম। তারা বলেন, নির্বাচিত হলে ঐতিহ্যের ঢাকার সৌন্দর্য বজায় রাখব।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার ১৫তম দিনের প্রচারে অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। এ সময় একটি সুন্দর সচল ও উন্নত ঢাকার যাবতীয় মৌলিক সুবিধা নগরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ারও অঙ্গীকার করেন এই দুই মেয়র প্রার্থী।

বেলা ১২টায় ওয়ারী থানা সংলগ্ন গড়িয়া মঠ এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত এবং উন্নত ঢাকার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

গড়িয়া মঠে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তাপস বলেন, রাজধানী ঢাকায় নাগরিকদের মৌলিক সুবিধা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, ঢাকাবাসীর জন্য বৃহৎ পরিসরে কাজ করা ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সেই তাগিদেই দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার পরিকল্পনা ও পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার দেখে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। আমাকে মেয়র পদে নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। ঢাকার ঐতিহ্য বজায় রেখে একটি সুন্দর সচল ও উন্নত ঢাকার যাবতীয় মৌলিক সুবিধা আপনাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে এসেছি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত এই মেয়র প্রার্থী বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ঐতিহ্যের ঢাকার সৌন্দর্য বজায় রাখব। পুরান ঢাকায় যেসব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আছে সেগুলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করব। যাতে বিশ্ববাসী সেগুলো দেখতে পারেন।

এদিকে ১৫তম নির্বাচনী প্রচারে তাপসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, সাধারণ সম্পাদক তারেক সাঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া গণসংযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ নগর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ এবং অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী আর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা ফুল ছিটিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে স্বাগত জানান। এ সময় তাপস সাধারণ মানুষের কাছে লিফলেট তুলে দেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট চান।

এদিকে চা চাওয়ালার পরে ক্রিকেটার হিসেবে দেখা গেল উত্তরে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে। শুক্রবার সকালে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে আয়োজিত দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান আতিকুল। সেখানে তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন।

দুই দল মাঠে নেমে খেলা শুরু করার কিছুক্ষণ পর গ্লাভস, প্যাড, হেলমেট পরে মাঠে নেমে যান আতিকুল ইসলাম। ব্যাট হাতে চলে যান স্ট্রাইকিং প্রান্তে। একজন স্পিনার আতিককে বল করলে তিনটি বাউন্ডারির বাইরে পাঠান নৌকার এই প্রার্থী। পরে ওই বোলারের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে আসেন মাঠের বাইরে।

এ সময় আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত-সন্ত্রাসমুক্ত করতে গেলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এজন্য নির্বাচিত হলে ঢাকা উত্তরে খেলার মাঠ তৈরির দিকে তিনি মনোযোগ দেবেন। আমাদের যুবসমাজ নানা কারণে ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে। সমাজে এমন কোনো ঘর নেই যেখানে কেউ না কেউ এ সমস্যায় আক্রান্ত নয়। আমরা হয়তো লোকলজ্জার ভয়ে সমাজের সামনে বিষয়টি আনি না। খেলাধুলা থাকলে যুবসমাজ এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে বলে আমি মনে করি।

আতিক বলেন, আপনাদের ভোটে জয়যুক্ত হলে আমি কথা দিতে পারি- মাঠগুলোকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনব। খুশি হবেন যে আমরা ২৪টি পার্ক এবং মাঠের কাজে হাত দিয়েছি, এসব মাঠের মধ্যে কয়েকটি হবে মাল্টিপারপাস। সেখানে ক্রিকেট-ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা করা যাবে। নির্বাচিত হলে কর্মজীবী মানুষের জন্য রাতে খেলার ব্যবস্থাও করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন আতিকুল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেকে দিনের বেলা অফিসে চলে যায়। আমরা মাঠগুলোয় বাতির ব্যবস্থা করে দেব। যেন কাজ শেষে বাচ্চাদের নিয়ে মাঠে যেতে পারেন। নির্বাচিত হলে নারীদের জন্য ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল টুর্নামেন্ট চালু করা হবে।

স্কুল-কলেজে নিয়মিত খেলাধুলা করতেন জানিয়ে আতিক বলেন, অনেকে আমার কাছে জানতে চায় আমি ফিট আছি কীভাবে। তাদের বলি, আমি এখনও প্রতিদিন বাসায় যাওয়ার আগে ফুটবল খেলি। না হলে পরদিন সকালে মাঠে যাই।

এদিকে ১৫তম দিনের নির্বাচনী প্রচারে আতিকুল বাউনিয়া, নলভোগ, কালিয়ারটেক, কামারপাড়াসহ ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১১ নং সেক্টর জমজম টাওয়ার এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালান। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে প্রচারপত্র বিলি করেন এবং নৌকা মার্কায় ভোট চান।

তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচিসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শুক্রবার তারকাদের নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন আতিকুল ইসলামের স্ত্রী ডা. শায়লা সাগুফতা। বিকালে রাজধানীর গুলশান ২ নম্বর ডিসিসি মার্কেট থেকে এই প্রচারণা শুরু হয়। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও নাট্যজন তারানা হালিম, অভিনেত্রী বাঁধন, অভিনেতা রিয়াজ, সাজু খাদেম প্রমুখ।

এ সময় শায়লা সাগুফতা বলেন, আমরা আশা করি জনগণ নৌকার পক্ষে ভোট দেবেন। আমরা ভালো কাজ করেছি। ৯ মাস আতিক নিরলস কাজ করে গেছেন। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন নগরবাসীর সেবা করতে। আশা করি ঢাকাবাসী আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেবেন।

প্রচারে নামছে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি : ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের নির্বাচনী প্রচারে আজ থেকে যুক্ত হচ্ছে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল।

এ সময় তিনি বলেন, আতিকুল ইসলাম ও ফজলে নূর তাপসের কাছে সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনা দেখতে চায় ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি। ইতিমধ্যে তাদের প্রচারে সাধারণ মানুষের কাছে তা স্পষ্ট হয়েছে। এই দুই মেয়র প্রার্থীর ওপর আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তাই আমাদের দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এই দুই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনী কাজ পরিচালনার জন্য আমাদের পার্টি ইতিমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে। ডিএনসিসিতে আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য জগদীশ সরকার ও ডিএসসিসিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মাহমুদ আহমেদ নেতৃত্ব দেবেন। আমরা ২৫ জানুয়ারি থেকে শেখ হাসিনা মনোনীত এই দুই মেয়র প্রার্থীর প্রচার কাজে যুক্ত হব।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মাসুদ আহমেদ, মাওলানা মেহেদি হাসান বুলবুল প্রমুখ।