বাতাবি লেবু চুরি করার খবর বলে দেওয়ায় আহাদ নামের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রকে তার সঙ্গীরা জীবন্ত কবর দেয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের পার্কার্তিকপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহাদ শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার সঙ্গী জাকারিয়া ও জিহাদ তাকে জীবন্ত কবর দেয়ার চেষ্টা করে। জাকারিয়া মিঠাপুর মাদ্রাসার ও জিহাদ মৌকরন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানায়, আহাদের দাদার গাছ থেকে না বলে বাতাবি লেবু পেড়ে খায় জাকারিয়া ও জিহাদ। আহাদ তা দেখে ফেলে। পরে এ খবর সে তার দাদাকে জানায়। দাদা জাকারিয়া ও জিহাদের পরিবারের লোকজনকে জানান এবং তাদের শাসন করেন।

এ ঘটনার জেরে আহাদকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে জাকারিয়া ও জিহাদ। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে জাকারিয়ার চাচা আব্দুল সালাম হাওলাদারের পরিত্যক্ত একটি ঘরের মধ‌্যে মাটি খুঁড়ে বড় গর্ত করে। এরপর কিছু খাওয়ার কথা বলে আহাদকে দোকানে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে আহাদকে জোর করে ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আহাদ চিৎকার করে। পরে জাকারিয়ার চাচাতো ভাই ও চাচি এ ঘটনা দেখে ফেলে। তারা এগিয়ে গেলে জিহাদ ও জাকারিয়া পালিয়ে যায়।

রোববার এ ঘটনা ঘটে। তবে আহাদের পরিবারের লোকজন মঙ্গলবার পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। আর এতে জাকারিয়া ও জিহাদের পরিবারের লোকজন আরো ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ আহাদের পরিবারের।

আহাদের দাদা ইউছুব আলী তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনা পুলিশকে জানালে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।’

আহাদের মা ফরিদা বেগম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনার জেরে প্রতিবেশী আলাল উদ্দিনের ছেলে জিহাদ ও জাফরের ছেলে জাকারিয়া আমার ছেলেকে জীবন্ত কবর দেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাক্রমে সেখানে লোকজন উপস্থিত না হলে আজ আমার ছেলে হয়তো থাকতো না।’

জাকারিয়ার মা রেনু বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের কথা বলে এই কাজ করবে তা বুঝতে পারিনি। স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।’

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ আসার পর এএসআই শামীম আকন ঘটনাস্থলে যায়। এসময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সিদ্ধান্ত নেন।’