সাভারের সিআরপি রোডে বাসার ছাদে থাকা গাছ কাটার ঘটনায় এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভার মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ওই নারীকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে গতকাল গাছকাটার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে। ভিডিওটি পোস্ট করেছেন সুমাইয়া হাবিব নামের এক নারী।

এদিকে আজ সকালে নিজ বাসা থেকে আটকের পর ওই নারী বলেন, আমি অনুতপ্ত, ভুল করেছি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী দা হাতে অন্য একজনের তৈরি করা ছাদবাগানের সব গাছ কেটে সাফ করে দিচ্ছেন! এ সময় বাগানটির মালিক তার কাছে এ কাজটি না করতে অনুনয়-বিনয় করছেন। চোখের সামনেই তিলে তিলে গড়া শখের বাগানটি টুকরো টুকরো হতে দেখছেন তিনি। কিন্তু তার আকুতি, মিনতির চুল পরিমাণ অনুভূতিও ওই নারীকে স্পর্শ করছে না। লাগাতার গাছ কেটেই যাচ্ছেন। তাকে থামাতে পারছে না কেউ। কারণ সঙ্গে তার ছেলে একদল সহযোগী নিয়ে ছাদে উঠেছেন।

ওই নারী কেন পরিবেশবান্ধব গাছ কেটে ফেলছেন? সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ভুক্তোভোগী সুমাইয়া হাবীব নিজেই।

গাছগুলো ছাদের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেই নাকি এগুলো কেটে ফেলেছেন ওই নারী।

ঘটনার বিবৃতি দিয়ে সুমাইয়া হাবিব লিখেছেন, কখনো কি শুনছেন মানুষ গাছ অপছন্দ করে? গাছ পরিবেশ নষ্ট করে? এই নারীর গাছ পছন্দ না। তার বক্তব্য আমাদের গাছ ছাদের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছে। তাই এই নারী আমাদের সব গাছ কেটে ফেলছে। কি অপরাধ ছিল গাছের? কি অপরাধ ছিল? কেউ বলতে পারবেন?

সুমাইয়া আরো লিখেছেন, আমার মা গাছ অনেক পছন্দ করে, তাই ছাদের এক কোণায় আমরা কিছু গাছ লাগিয়েছিলাম। আর এই নারী আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করে আমাদের লাগানো গাছগুলো কেটে ফেলল।

সমালোচনার শিকার হলে ওই নারীর ছেলে লিখন ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘এক মাস আগে গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে কিন্ত তিনি গাছ গুলো কাটছিলেন না। এগুলো তার পারসোনাল গাছ। শাকসবজি, তরকিয়ারির গাছ। এগুলো তো ফুল গাছ না। ফুল গাছ হলে কথা ছিল। আপনারা ভিডিও দেখে জাজ করতেছেন। ভিডিওর আগে পরে কিছু না জেনে আমাকে আর আমার আম্মুকে গালিগালাজ করছেন- এটা ঠিক হচ্ছে না।’