“বড়লোকের বেটি লো” ইতিমধ্যেই করোনার পাশাপাশি এই গানটিতে নজর পড়েছে সকলের। অবশ্যই জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের বাঙালি সাজে সেজে ওঠাই গানটির ভাইরাল হওয়ার একমাত্র কারণ নয়। রতন কাহারের লেখা ও সুরেই তৈরি মূল গানটি।

নেটিজেনের অভিযোগ, বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা রতন কাহারকে কোনও কৃতিত্ব না দিয়েও বেমালুম গানটি চুরি করে নিয়েছেন বাদশাহ। ইউটিউবে গানটির বিষয় প্রথমে লেখা ছিল লিরিকস এবং সুর বাদশাহরই লেখা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঙালিরা রে রে করে উঠতেই এখন সেই ডিটেলিংয়ের জায়গা বদলে হয়েছে বাংলা লোকগীতি।

সমস্যার সমাধান এখানেই শেষ হয়নি বরং বেড়ে গিয়েছে। রতন কাহারের নাম কোথাও নেই। ফেসবুক থেকে এখন বাদশাহর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছড়িয়ে গিয়েছে টুইটার, ইনস্টাগ্রামে।

রতন কাহারের পুরনো ভিডিও এবং সাক্ষাৎকার খুঁজে বের করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা শুরু করেছে নেটিজেনরা।

কেবল রতন কাহারের ছবি ভিডিও পোস্ট ছাড়াও, সোনি মিউজিককে ট্যাগ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে অসংখ্য বাঙালি।

তাদের দাবি, গানটির বিষয় খোঁজ-খবর করার দায়িত্ব সনি মিউজিকেরও বর্তায়। জ্যাকলিন যে গানের অর্থ কিংবা অতীত কোনটাই বুঝবেন না, সেটাই স্বাভাবিক কারণ তিনি শ্রীলঙ্কার বাসিন্দা।

সাইবারবাসীরা এও জানিয়েছে, বাদশাহ নিজেকে সঙ্গীতশিল্পী বলেন এদিকে একটি গানের বিষয় খোঁজ খবর না নিয়েই কী করে নিজের সুর ও লেখা বলে দাবি করেন।

যারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছে যারা রতন কাহারের নাম জানত না। তারও এখন রতন কাহারের বিষয় খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে।

বাদশাহর গানটি মুক্তি পাওয়ার পর গানটি ইউটিউবের ট্রেন্ডিংয়ে এক নম্বরে ছিল। কিন্তু প্রতিবাদের ঝড় ওঠার পর ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিংয়ে উঠে এসেছে রতন কাহারের নাম।

বহু সংবাদমাধ্যম পৌঁছে গিয়েছে রতন কাহারের কাছে। তাঁকে এই বিতর্ক নিয়ে জিজ্ঞেস করায় স্বাভাবিকভাবেই নিজের মনবেদনা ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁকে এও প্রশ্ন করা হয়, বাদশাহর বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা। সে বিষয় তিনি জানান, তাঁর সেই আর্থিক সামর্থ্যই নেই।

গানটির ব়্যাপ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বহু শ্রোতা। তাদের কথায়, একটি লোকগীতিকে এমন বিকৃত করার কী দরকার ছিল।

বাদশাহর ব়্যাপ অধিকাংশ বাঙালি শ্রোতাদের কাছে অশ্লীল মনে হয়েছে। গানের কথা অনুযায়ী, জ্যাকলিনের পোশাকও নাকি একেবারেই মানানসই নয়।