ধ’র্ষকদের গ্রে’প্তারের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে অনশরত শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বিথী অ’সুস্থ হয়ে পড়েছেন।মাথা ব্যাথা ও বমির কারণে অ’সুস্থ হয়ে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অ’নশনরত শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বিথী। ফাতেমাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীমা পারভীন।

এদিকে, ফাতেমা আক্তার বিথী অ’নশনস্থল থেকে অন্য কোথাও গিয়ে বা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে রাজি নন। এর আগেও অ’নশন পালন করতে গিয়ে অ’সুস্থ হয়ে পড়েন ভু’ক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। পরে তাকে রাজধানীর একটি বেস’রকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ফের রাজু ভাস্কর্যে অ’নশনে যোগ দেন তিনি।

ধ’র্ষণ মা’মলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং তার সহযোগীদের গ্রে’প্তার ও বিচারের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর রাজু ভাস্কর্যের নিচে অ’নশনে বসেন ফাতেমা আক্তার বিথী।
গেল ২১ সেপ্টেম্বর ভু’ক্তভোগী শিক্ষার্থী রাজধানীর লালবাগ থানায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আ’সামি করে ধ’র্ষণ মা’মলা দা’য়ের করেন।

এ মা’মলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ আরও পাঁচ জনকে সহযোগিতার অ’ভিযোগে আ’সামি করা হয়। পরদিন সেপ্টেম্বর তিনি এই ছয় আ’সামির বি’রুদ্ধে নতুন

আরেকটি মা’মলা করেন রাজধানীর কোতোয়ালি থানায়। এই মা’মলায় আ’সামিদের বি’রুদ্ধে প’রস্পর যোগসাজশে অ’পহরণ, ধ’র্ষণ, ধ’র্ষণে সহযোগিতা এবং হেয় প্রতিপন্ন করতে ডিজিটাল মাধ্যমে অ’পপ্রচারের অ’ভিযোগ আনা হয়।

পরে গতকাল বুধবার নুরের বি’রুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মা’মলা দা’য়ের করে ঢাবির ওই শিক্ষার্থী। নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভু’ক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আ’পত্তিকর মন্তব্য করার অ’ভিযোগ আনা হয়েছে মা’মলায়।

পু’লি’শ ফাঁ’ড়ি’তে নি’র্যা’তনে মৃ’ত্যু’র আগে শে’ষবারে’র মতো যা ব’লেছিলেন রা’য়হান
‘আমি চো’র না, আমা’রে মা’ই’রেন না’। বন্দর’বা’জার ফাঁ’ড়িতে নি’র্যা’ত’নে মা’রা’ যাওয়ার আগে সি’লেটের রায়হা’ন উদ্দিন আ’হম্মেদ শেষ’বার চি’ৎকা’র করে’ছিলেন এভাবেই। নিজের জী’বন বাঁ’চাতে পু’লিশের কাছে এভা’বেই আকু’তি জানি’য়েছি’লেন। তবু বাঁচতে পারে’ননি তিনি।

ফাঁড়িতে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনি’টের নি’র্যা’তনে শেষ পর্যন্ত মৃ’ত্যু’ হয় রা’য়হা’নের। মৃ’ত্যু’র আগে রায়’হানের শে’ষ চি’ৎকার শুনেছি’লেন বন্দর’বাজার পু’লিশ ফাঁ’ড়ির পা’র্শ্বব’র্তী কুদ’রত উল্লাহ বো’র্ডিংয়ের এক ব্যক্তি। নাম হাসান আহমেদ। তিনিই জা’নালেন সেই রাতের ঘটনার রো’মহ’র্ষক বর্ণনা’।

হাসান বলেন, আমি ‘কুদরত ‘উল্লাহ বো’য়ের ১০২ নম্বর রুমে থাকি। সেই রাতে এক আত্মীয়কে ঢাকার বাসে তুলে দিতে কদ’মতলী টার্মিনা’লে গিয়ে’ছিলাম। গ’ভীর রাতে ফিরে আসার সময় শুনতে পাই ফাঁ’ড়ির ভেতরে কেউ চি’ৎকার করে বলছে ‘আমি চো’র না, আমা’রে মা’ইরেন না’।

তিনি আরো বলেন, মনে হচ্ছিল লো’কটি কা’রো কাছে প্রা’ণ ভি’ক্ষা’ চাইছে। পরদিন সকালে প’ত্রি’কায় রা’য়হা’নের মৃ’ত্যু’র খবর দেখি। রো’ববার সকা’লে ব’রবাজা’র পু’লিশ ফাঁ’ড়িতে রায়’হান নামে ওই যুবকের মৃ’ত্যু হয়। তিনি নগরীর আ’খালিয়া নেহারিপাড়ার রফি’কুল ইস’লামে’র ছে’লে।

নি’হ’তের পরিবারের দাবি, ফাঁড়ি’তে নি’য়ে নি’র্যা’তন করে রায়হা’নকে হ’ত্যা’ করেছে পু’লিশ। তবে, পু”লিশের দাবি, নগ’রীর কাষ্ট’ঘর এলাকায় ছি’নতা’ইয়ের সময় গণ’পি’টুনি’তে নি’হ’ত হয়ে’ছেন রায়হান। এ ঘটনায় রো’ববার রাতে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থা’নায় মা’মলা করেন নি’হতের স্ত্রী’ তাহমিনা আক্তার তান্নি। মা’মলায় অ’জ্ঞা’ত’দের আ’সা’মি করেছেন তিনি।

মা’মলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিনের মতো শনিবার বিকেলে রায়হান নিজ কর্মস্থল স্টেডিয়াম মা’র্কে’টের ডা. গো’লাম কি’বরিয়া ও ডা. শা’ন্তা রাণীর চেম্বারে যান। পরদিন ভোরে ০১৭৮৩৫৬১১১১ নম্বর থেকে রায়হানের মা সা”লমা বেগমের ‘মোবাইলে একটি কল আসে। ক’লটি রি’সিভ ক’রেন রায়হা’নের চাচা হাবিবুল্লাহ।

ওই সময় মোবা’ইলের অন্য’দিক থেকে রায়’হান আ’র্ত’নাদ করে বলেন, তিনি বন্দরবাজা’র পু’লিশ ফাঁ’ড়িতে আ’ছেন। ছাড়া পেতে ১০ হা’জার টাকা লাগবে। হা’বিবুল্লাহ তাৎক্ষ’ণিক ৫ হা’জার টা’কা নিয়ে ফাঁড়ি’তে গেলে এক পু’লি’শ সদস্য বলে, ’১০ হাজার চাওয়া হ’য়েছিল, পাঁচ হা’জার কেন?’ ওই সময় রায়’হানের খোঁ’জ জানতে চাইলে ওই পু’লি’শ স’স্য বলে, ‘সে ঘু’মিয়ে গেছে। পুরো ১০ হাজা’র ‘টাকা নিয়ে স’কালে আসেন’।

কথামতো ১০ হা’জার টাকা নিয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফাঁড়িতে গেলে হাবিবুল্লাহকে জানানো হয়, রা’য়হা’নকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়েছে। এর’পর হাসপাতা’লে গিয়ে হাবিবুল্লাহ জানতে পারেন স’কাল ৬টা ৪০ মিনিটে রায়’হা’নকে হাস’পাতা’লে ভর্তি করা হয়। সকাল ৭টা ৫০ মি’নিটে তার মৃ’ত্যু’ হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতা’লের ম’র্গে গিয়ে রা’য়হানের ক্ষ’ত’বি’ক্ষত ম’রদে’হ দেখতে পান।

নি’হ’তের স্ত্রী’ তাহ’মিনা আক্তার তান্নি বলেন, আমা’র স্বামীকে বন্দরবা’জার পু’লিশ ফাঁড়ি’তে নি’য়ে হাত-পায়ে’ আ’ঘা’ত ও নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। রাত’ভর নি’র্যা’তনেই তার মৃ’ত্যু হয়েছে।এদিকে, রায়হা’নের মৃ’ত্যু’র ঘটনায় বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁ’ড়ি’র এসআই আকবর হোসে’নসহ চারজ’নকে সা’ময়িক বরখা’স্ত করা হয়েছে। এছা’ড়া আরো তিন’জনকে প্র’ত্যাহা’র করা হয়েছে। বর’খাস্তে’র পর থেকেই এসআ’ই আ’কবর লা’পাত্তা।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বাকি তিন পু’লিশ সদস্য হলেন- এএসআ’ই তৌহিদ মিয়া, কন’স্টেব’ল টিটু চন্দ্র দাশ, হারু’নুর রশিদ। প্র’ত্যা’হার হয়েছেন, এএস’আই আশিক এলাহী, এএসআই কুতু’ব আলী, কন’স্টে’বল সজীব হোসেন।

রায়হান হ’ত্যা মা’ম’লা সি’লেট ম’হানগর পু’লি’শের কাছ থেকে পি’বিআই’কে হ’স্তা’ন্তর করা হ’য়েছে। মঙ্গলবা’র রাতে আ’নুষ্ঠানিক’ভাবে মা’ম’লার সকল নথি পিবিআইকে হ’স্তান্ত’র করে এসএমপি। বুধবা’র ত’দ’ন্তে নেমে বন্দর’বা’জার ফাঁড়ি পরি’দর্শন, কা’ষ্টঘর এ’লাকায় গিয়ে প্রত্য’ক্ষ’দর্শী’দের সঙ্গে’ কথা বলা ও নি’হত রা’য়হা’নের বাড়ি’তে যায় পিবিআই।

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000