সড়ক দুর্ঘটনায় প্রেমিকার মৃত্যুর আট মাস পর আত্মহত্যা করেছেন ভারতের বারাসাতের ২৭ বছরের তরুণ অরিত দাস। বারাসাত থানার পুলিশ তার মর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি।

জানা গেছে, ১০ বছরের প্রেম ছিল তাদের। ছিল একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকারও। কিন্তু আট মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় প্রেমিকা শ্রাবণী (মিঠু) পালের। সেদিন শ্রাবণীকে পেছনে বসিয়ে বাইক চালাচ্ছিলেন অরিত।

এপ্রিলের এক সন্ধ্যায় পাথরবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় বারাসাত কলোনি মোড়ে শ্রাবণীর মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলেন অরিত। একা একা থাকতেন। বেশি কথাও বলতেন না। সেই হতাশা থেকে নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। আত্মহত্যার আগে অরিত তার সুইসাইড নোটে লেখেন, ও একা আছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। মিঠুর জন্যই আমি চলে যাচ্ছি। মা এবং বোন তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও।

বারাসাতেই বাড়ি অরিত আর শ্রাবণীর। অরিতের বাড়ি বারাসাত পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অরবিন্দ পল্লি এলাকায়। আর শ্রাবণীর বাড়ি মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। দু’জনের প্রেম সেই স্কুল থেকে। পরে দু’জনেই স্নাতক শেষ করেন।

অরিত ২০১৮ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের চাকরিও পান। দুই পরিবারই জানত তাদের সম্পর্কের কথা। দু’জনের বিয়েও ঠিক হয়েছিল। অরিতের বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। মা স্বপ্না দাস এবং এক বোন রিমিকে নিয়ে ছিল সংসার। অরিতের সাধ ছিল শ্রাবণীকে বিয়ে করে ভরে উঠবে জীবন। কিন্তু একটা দুর্ঘটনা শেষ করে দিল সব কিছু।

অরিতের মানসিক অবস্থা বুঝে পরিবারের সদস্যরা তাকে বেশি করে সঙ্গ দিতে শুরু করেন। তাতে কাজও হয়েছিল। অরিতের বোন রিমি বলেন, অফিস থেকে ফিরে একা বসে দাদা শুধু কাঁদত। বলত, ওকে ছাড়া আমার খুব কষ্ট হয়। রাতে ঘুমাতে পারি না।

তিনি আরো বলেন, আমার আর মায়ের বোঝানোর জেরে ও কিছুটা ধাতস্থ হয়েছিল বোধ হয়। কিন্তু হতাশাটা পুরোপুরি কাটিয়ে ফেলতে পারেনি।

অরিতের মৃত্যুর পর খাটের পাশে টেবিলে রাখা চিরকুটে লেখা সুইসাইড নোট পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন অরিত আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের লোকজন বলছেন,  অরিতের এই হতাশা বাইরে থেকে বোঝাই যায়নি সেভাবে। কিছুদিন আগে অফিস পিকনিকে ঘুরেও আসেন সুন্দরবন। তাতে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা আশ্বস্তও হয়েছিলেন। শেষ দিকে অরিত একটু বেশিই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। একা থাকলেই তার দু’চোখ বেয়ে পানি গড়াত। এর কারণ তার মা-বোনের বুঝতে অসুবিধা হয়নি।

খাওয়াদাওয়া করে নিজের ঘরেই ঘুমোতে গিয়েছিলেন অরিত। পাশের ঘরেই ছিলেন তার মা ও বোন। অরিতের ঘরের দরজা লাগানোই ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে উঠেই ছেলের জন্য রান্না বসিয়ে দেন। অন্য দিকে, সকাল ৭টা নাগাদ রিমি দরজা ঠেলতেই দেখেন অরিতের ঝুলন্ত দেহ। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় বিছানার চাদর লাগিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে শ্রাবণীর মামা অসীম পাল বলেন, খুব দুঃখজনক ঘটনা। ওদের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। সম্ভবত চোখের সামনে প্রেমিকার মৃত্যু অরিতকে বিচলিত করেছিল। এমন মৃত্যু কারো পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরাও শুনে খুব দুঃখ পেয়েছি।