কোনো কোনো হাদিসে টিকটিকি হত্যা করতে বলা হয়েছে। টিকটিকি হত্যা করা সওয়াবের কাজ বলেই আমরা জানি। কিন্তু তার কারণ হয়তো অনেকেই জানে না। একাধিক হাদিসের বর্ণনায় টিকটিকি হত্যার নির্দেশ পাওয়া যায়। উম্মে শারিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) টিকটিকি হত্যার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইবরাহিম (আ.)-কে যে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তাতে এই প্রাণী ফুঁ মেরেছিল। (বুখারি, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ)

মুসনাদে আহমাদে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা টিকটিকি হত্যা করো, এটি ইবরাহিম (আ.)-এর অগ্নিকুণ্ডে ফুঁ দিয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, এর পর থেকে আয়েশা (রা.) টিকটিকি হত্যা শুরু করেন।

পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম মুফতি মুহাম্মাদ শাব্বির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, টিকটিকি একটি কষ্টদায়ক প্রাণী। তা থেকে যথেষ্ট ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। টিকটিকি কখনো খাদ্যসামগ্রীর ওপর চলাচল করতে পারে। তখন খাবারে লালাও ফেলতে পারে, এতে মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। কেননা টিকটিকির লালায় বিষক্রিয়া থাকে।

এই বিষ মানুষের পেটে প্রবেশ করলে তার মৃত্যুও হতে পারে। আর হয়তো মহানবী (সা.) এ জন্যই ক্ষতিকর এই প্রাণী হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। শরিয়তের মূলনীতি হলো—‘আদ-দারারু ইয়ুজালু’। অর্থ— ক্ষতি দূর করা হবে। এই মূলনীতির আলোকেই মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নামাজরত অবস্থায়ও দুটি কালো প্রাণী হত্যা করো : সাপ ও বিচ্ছু।’ (ইবনে মাজাহ)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি একটি সাপ হত্যা করল তার জন্য সাত সওয়াব এবং যে একটি টিকটিকি হত্যা করবে তার জন্য একটি সওয়াব।’

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই একটি টিকটিকি মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত সওয়াব; যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে তা মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত অপেক্ষাকৃত কম সওয়াব; আর যে ব্যক্তি তৃতীয় আঘাতে তা মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত অপেক্ষাকৃত আরো কম সওয়াব।

অপর বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই একটি টিকটিকি মারবে তার জন্য রয়েছে এক শ নেকি, দ্বিতীয় আঘাতে মারলে রয়েছে তার চেয়ে কম নেকি আর তৃতীয় আঘাতে মারলে রয়েছে তার চেয়ে কম নেকি। (মুসলিম)

ডেইলি পাকিস্তান অবলম্বনে

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000