যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অভিবাসীদের বড় একটি অংশ বরাবরই ডেমোক্রেটদেরকে সমর্থন জানিয়ে আসছে।

এমনকি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টিকে সমর্থন করেন, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কয়েক মাস আগেও ছিল ভীষণ কঠিন।

এক কথায় অধিকাংশই তাদের নিজেদের সমর্থন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি জানিয়ে এসেছে। কিন্তু আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করেছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করেন।

যদিও এখনো প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকাংশই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনকেই পছন্দ করছেন। তবে ট্রাম্পকে পছন্দ করেন এমন বাংলাদেশির সংখ্যাও দিনে দিনে বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পদ্ধতি অনুযায়ী ভোটাররাও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিবন্ধিত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে আগে নিবন্ধিত ডেমোক্রেটদের সংখ্যা অনেক চোখে পড়তো। এখনো সেই সংখ্যা বেশি হলেও নিবন্ধিত রিপাবলিকানের সংখ্যা বাড়ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় টেলিভিশন টিবিএন২৪ সম্প্রতি একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ চালায়। এতে ২৯১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের মতামত জানায়; যাদের বেশিরভাগের বসবাস নিউ ইয়র্কে। 

টেলিভিশনটির অন্যতম পরিচালক ও অনুষ্ঠান সঞ্চালক হাবিব রহমান জানিয়েছেন, জরিপের ফলাফল দেখে তিনি রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘৫৯ শতাংশ ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও, ৪১ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে বলেছেন। কিছুদিন আগেও এটি ভাবা যেত না’।

সম্প্রতি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় একদল দুষ্কৃতকারীর লুটপাট ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে ডেমোক্রেটরা ঠিকমতো তাদের দায়িত্ব পালন করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসীরা পুলিশের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গসহ কোনো মানুষের হত্যাকাণ্ডকেই সমর্থন করেন না।

এরপরও ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত স্টেটগুলোয় পুলিশের ক্ষমতা কমানোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে অনেকের মতামত। সেইসঙ্গে অর্থনীতি ভালো করাসহ আরো কিছু কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে মনে করেন হাবিব রহমান।

ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়ার জন্যে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান এলায়েন্স। এই এলায়েন্সের চীফ কো-অর্ডিনেটর মুশতাক চৌধুরী দৈনিক কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘দেখুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প গত চার বছরে দেশের জন্যে সর্বোচ্চটুকু করেছেন।

সীমান্ত ছাড়া একটি দেশ হয় না। তিনি দেশের সীমান্তকে সুরক্ষিত করেছেন। তিনি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছেন; কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন’।

মুশতাক চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করেছেন। নতুন করে কোনো যুদ্ধের সূচনা করেননি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। একই সঙ্গে চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করেন তিনি।

তবে বাংলাদেশিদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে সমর্থন করে গড়ে ওঠা সংগঠনের সংখ্যাই অনেক বেশি। তেমনি একটি নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাব। এই সংগঠনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহনাফ আলম কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।

তিনি বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্প দেশকে বিভক্ত করে ফেলেছেন। পুলিশের হাতে একের পর এক কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক হত্যার ঘটনার পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মমতা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। বরং বর্ণবাদকে উস্কে দিয়েছেন বলে তার অভিযোগ।

আহনাফ আলম বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসীদের মধ্যে আতংক ও অস্থিরতা তৈরি করেছেন। সেই সঙ্গে তার কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার নেতৃত্ব খর্ব হয়েছে, দেশের বন্ধু অনেক কমে গেছে’।

করোনা মোকাবেলায় ট্রাম্পের ভূমিকার কারণে দেশের সংক্রমিত ও মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গোটা আমেরিকা জুড়েই ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের পক্ষে সমর্থন আরো বেড়েছে বলে এক জনমত জরিপে জানা গেছে।

রবিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপকারী সংস্থা ইপসসের প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপে বাইডেনকে ট্রাম্পের তুলনায় ১০ পয়েন্ট এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বলেছেন, ট্রাম্প যদি প্রাণঘাতী এ ভাইরাসকে গুরুত্ব দিয়ে সাবধান হতেন, তাহলে তিনি সংক্রমণ এড়াতে পারতেন।

এক হাজার ৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর চালানো দুদিনের এই জরিপে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোয় বাইডেনের সমর্থনে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা, সে সম্বন্ধে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

সারা পৃথিবীতে করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিলেও ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে মহামারির ভয়াবহতাকে অস্বীকার করে আসছিলেন। মহামারি নিজে নিজেই শেষ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে তিনি বাইডেনের মাস্ক পরা নিয়ে টিটকারিও করেছিলেন।

সেই তিনি, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও তার নির্বাচনী শিবিরের অনেকেই এখন করোনায় আক্রান্ত। আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করে বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফল এটি’।

তবে তার রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছ থেকে সহমর্মিতা ও সমর্থনই পাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর দুই দলের সমর্থকরাই চাইছেন দেশের প্রেসিডেন্ট দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। ৩ নভেম্বর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হোক, কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।  

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000