বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ১ মাস ৭ দিনের মাথায় আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়ায় আপাতত খুশি পরিবারের সদস্যরা। তবে দ্রুত সময়ের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারকাজ শেষে খুনিদের ফাঁসি দেখতে চান আববারের মা, বাবা ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আমার ভাইয়া অকালে মারা গেছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিলে হয়তো ভাইয়া বেঁচে থাকত। তাই তারাও দায় এড়াতে পারে না। তাদেরকেও সাবধান করতে হবে।

বুধবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এরপর কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কে আবরার ফাহাদের বাসায় গিয়ে চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে কথা হলে তার মা রোকেয়া খাতুন বলেন, পুলিশ কথা রেখেছে। তারা বলেছিল নিরপেক্ষভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আবরার ফাহাদের বিচারের দায়িত্ব নেন। সেই দায়িত্ববোধ থেকে তিনি নিজে বিষয়টি মনিটরিং করছেন। তাই তাকেও ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি। চার্জশিটের কপিতে কি আছে আমরা জানি না। তবে চার্জশিট যেমন দ্রুত হলো এখন দ্রুততম সময়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করতে হবে অপরাধীদের। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সবাইকে কঠোর ও সর্বোচ্চ সাজা দিতে হবে।

আবারের মা আরও বলেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি আমরা বলে আসছিলাম। পুলিশও তদন্তে সেটা প্রমাণ পেয়েছে। তাই এখন থেকে তাদেরও প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে। যাতে আর কোন আবরারকে আমাদের হারাতে না হয়। আবরারের মা সব মিডিয়া, বুয়েটের আন্দোলনকারী থেকে শুরু করে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ এ সময় বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তার কর্মস্থল আলাউদ্দিনগরে ছিলেন। ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমার ছেলে মারা যাবার পর সবাই দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার ও অভিযোগপত্র দেয়ার দাবিতে মাঠে ছিল।

প্রাথমিকভাবে আমরা পুলিশের কাজে খুশি। তারা তদন্ত করে ১৯ জনের পরিবর্তে ২৫ জনের সম্পৃক্ততা পেয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এখন দ্রুত শুনানি শেষে বিচার কাজ শুরু করতে হবে। আর চার্জশিটের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত জানতে পারব, বলেন তিনি।