করোনাভাইরাসের কারণে সাত মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল শুক্রবার দেশের সিনেমা হল খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রথম দিন খোলা হয়েছে ৬৬টি সিনেমা হল। এর মধ্যে ৪০টি হলে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম প্রযোজিত ‘সাহসী হিরো আলম’ সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নতুন সিনেমা মুক্তি দেওয়ায় ৪০টি হলে দর্শকের ভিড় লক্ষ করা গেলেও যেগুলোয় নতুন সিনেমা ছিল না, সেগুলোয় দর্শক সমাগম ছিল না।

মধুমিতা, বলাকা, শ্যামলী সিনেমা হলের মতো রাজধানীর বেশ কিছু বড় হল নতুন সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় খোলেনি। দেশে বর্তমানে সিনেমা প্রদর্শনের জন্য ১১৫টি হল থাকলেও ৩০ থেকে ৩৫টি সিনেমা হল খোলেনি শুধু বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে।

হিরো আলম গতকাল সন্ধ্যায় জানান, তাঁর মুক্তি পাওয়া সিনেমা রাজধানীর চিত্রামহল, জিঞ্জিরার নিউ গুলশান ও নারায়ণগঞ্জে ভালো ব্যবসা করছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুটি শো ছিল দর্শকপূর্ণ। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে তাঁর কাছে যেসব হল থেকে ফোন এসেছে, সেগুলোতেও দর্শক সমাগম ছিল উল্লেখ করার মতো।

রাজধানীতে ৯টি হলে সিনেমা প্রদর্শন শুরু হয়েছে। ফার্মগেটের আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রথম প্রদর্শনী শুরু হয় সকাল ১০টায়। দুই হলে প্রত্যাশার চেয়ে দর্শক কম হলেও দীর্ঘদিনের খরার পর সামান্য বৃষ্টির আনন্দ অনুভব করেছি। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা স্বাস্থবিধি মেনে অর্ধেক আসনে দর্শক বসার ব্যবস্থা করেছি আমরা।’

যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লক বাস্টার সিনেমাসের সাতটি থিয়েটারের তিনটি খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিচালক আলমগীর আলম জানান, পর্যায়ক্রমে তাদের অন্য থিয়েটারগুলোও খুলে দেওয়া হবে। করোনা-পরবর্তী এই সময়ে দর্শক সমাগম কিছুটা কম। তবে ভালো ও নতুন ছবি দরকার। তাহলে দর্শকরা আবার হলমুখী হবে।

ঢাকার বাইরে বৃহৎ সিনেমা হল যশোরের মণিহার। এই হলে নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি। চালানো হচ্ছে শাকিব খানের শাহেনশাহ সিনেমাটি। হলের ব্যবস্থাপক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সাধারণত শুক্রবার প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটে। কিন্তু আজ (গতকাল) দর্শক নেই বললেই চলে। বিষয়টি হতাশাজনক। এর পরও ধীরে ধীরে দর্শক বাড়বে এই প্রত্যাশা করছি।’

তবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের পূর্ণিমা হলের বুকিং এজেন্ট শোনালেন আশার বাণী। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে চলছে সাহসী হিরো আলম ছবিটি। আমরা আশা করিনি এত দর্শক হবে। সরকারের পক্ষ থেকে অর্ধেক আসনে দর্শক বসানোর শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত মেনে চলছি আমরা। অনেক দর্শক ঘুরে গেছে। তাদের আমরা টিকিট দিতে পারিনি। করোনার পর হল খুলে এত বিপুল দর্শক পাওয়া সত্যি আনন্দের।’

সিরাজগঞ্জের তালা উপজেলার রজনীগন্ধা সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজিজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন হল বন্ধ থাকায় দর্শকের চাপ বেড়েছে। এখানে প্রচুর দর্শক এসেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক টিকিট বিক্রি করায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।’

প্রযোজক পরিবেশক সমিতির হিসাবে, দেশে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে নতুন ২৪টি সিনেমা। হল খুললেও করোনা মহামারির কারণে ঝুঁকি নিয়ে বিশাল লগ্নির এসব নতুন সিনেমা তারা মুক্তি দিতে চাচ্ছে না।

হল বন্ধ রাখার কারণ হিসেবে রাজধানীর শ্যামলী সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক আহসানুল্লাহ বলেন, ‘যেহেতু নতুন সিনেমা নেই, আমরা হল খুলে খরচ ওঠাতে পারব না। কর্তৃপক্ষ এক-দুই সপ্তাহ দেখবে, এরপর সিদ্ধান্ত নেবে।’ একই কথা বললেন রাজধানীর বলাকা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক শাহীন হোসেন।