চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বৈষম্য-অসমতা। ধনী-গরিবে আর নারী-পুরুষে বৈষম্য এখন আকাশ-পাতাল। একচেটিয়া বাণিজ্য, দুর্নীতি ও সম্পদের অসম বণ্টনসহ বেপরোয়া ও লাগামহীন পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক নীতির কারণে পৃথিবীর সব অর্থ-ধন-সম্পদ জড়ো হচ্ছে মুষ্টিমেয় কয়েকটি হাতে।

পুরো বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে তারাই। আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা অক্সফামের এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, মজুরিবিহীন ও কম মজুরি পাওয়া নারী ও মেয়েদের শ্রম প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তি শিল্পগুলোর চেয়ে তিনগুণ বেশি মূল্য সংযোজন করছে।

তা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দুই হাজার ১৫৩ জন মানুষ দরিদ্রতম ৪৬০ কোটি মানুষের চেয়ে বেশি অর্থ নিয়ন্ত্রণ করছে। খবর রয়টার্সের।

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে সোমবার (২০ জানুয়ারি) অক্সফামের এক প্রতিনিধি সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এদের সংখ্যা দুই হাজার ১৫৩। তাদের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষের মোট সম্পদের চেয়ে বেশি। এমন অবস্থা ঠেকাতে অর্থনৈতিক নীতিতে সমতা ও ন্যায্যতাকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে অক্সফাম।

ধনীদের ওপর আরও বেশি কর আরোপেরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ‘টাইম টু কেয়ার’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নারীদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হয় না।

বিশ্বে নারীরা প্রতিদিন মোট এক হাজার ২৫০ কোটি ঘণ্টা মজুরিহীন শ্রম দিচ্ছেন। স্বীকৃতিহীন এসব শ্রমের কারণে প্রযুক্তিশিল্পের চেয়ে তিনগুণ বেশি অর্থনৈতিক মূল্য যুক্ত হয়।

নারীরা তাদের মজুরিহীন শ্রম দিয়ে প্রতি বছর ১০ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার অর্থমূল্য যোগ করছেন বিশ্ব অর্থনীতিতে। অক্সফাম ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী অমিতাভ বেহার রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি সাধারণ নারী-পুরুষের শ্রম আর ঘামের বিনিময়ে সোজা বিলিয়নিয়ার ও বড় ব্যয় পকেটে চলে যাচ্ছে।

তবে মানুষ এখন সচেতন হতে শুরু করেছে। এমন হাজার হাজার কোটি ডলারের মালিক আসলেই থাকা উচিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে তারা।’

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরুষরা নারীদের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি সম্পদের মালিক। বৈষম্যমূলক নীতির কারণে বিশ্বে মাত্র ২২ জন পুরুষ আফ্রিকার ৩২ কোটি ৬০ লাখ নারীর মোট সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন।

বিশ্ব অর্থনৈতিক নীতি পুরুষদের পুরস্কৃত করছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে। এর কারণ হিসেবে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারীদের কম অংশগ্রহণকে দায়ী করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্বে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোতে গড়ে মাত্র ১৮ শতাংশ নারী মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। আর সংসদে রয়েছেন মাত্র ২৪ শতাংশ নারী।

এসব কারণে নীতি প্রণয়নে নারী-পুরুষের মধ্যে অসমতা বাড়ছে। অমিতাভ বেহার বলেন, ‘আমরা যে অর্থনীতিতে আছি, নারীদের মজুরিহীন সেবাই তার অলক্ষ্যে থাকা ইঞ্জিন।

এই জায়গাটায় আমাদের নজর দেয়া উচিত। এটির পরিবর্তন হওয়া দরকার।’ এছাড়াও প্রতিবেদনটিতে শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, ফোবর্সের তথ্যমতে ই-কমার্স সাইট অ্যামাজনের মালিক জেফ বোজেস এখন পৃথিবীর এক নম্বর ধনী।