ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন-সংশ্নিষ্ট মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে জেলায় জেলায় গঠন করা হয়েছে পৃথক নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল। তবে সেখানে ধর্ষণ মামলার বিচারে বছরের পর বছর লেগে যায়। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের তুলনায় গত বছরই ধর্ষণ-সংক্রান্ত মামলা দ্বিগুণ হয়েছে। এ বছর করোনাভাইরাস মহামারিতে জনজীবন থমকে গেলেও ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি। বরং সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে বর্বরোচিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় আলোড়িত হয়েছে দেশ। ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনায় লাগাম টানতে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডকেই যথোপযুক্ত মনে করছে সরকার।

বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ (সংশোধন) অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন। এবার ওই আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী সোমবার এ সংশোধনী মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ও জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণ-সংক্রান্ত শাস্তির বিধান সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ড যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভা বৈঠকে উঠবে।’

এদিকে ধর্ষণ-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ধর্ষণ-সংক্রান্ত মামলার তালিকা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে এ তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এরপর এসব মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির কাছে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের জন্য অনুরোধ জানাবে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর সমকালকে বলেন, ‘ধর্ষণ একটি ঘৃণিত অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা আমাদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি তাগিদ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে সচেষ্ট। তারই আলোকে ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের জন্য তালিকা প্রণয়ন এবং সেটি প্রধান বিচারপতি ও হাইকোর্টে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ঝুলছে পৌনে দু’লাখ ধর্ষণ মামলা :সমকালের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিচারের ধীরগতির কারণে আদালতগুলোতে ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার জট কেবল বেড়েই চলেছে। এ সুযোগে অধিকাংশ আসামি মামলার বিভিন্ন প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামি অনেকে প্রভাবশালী হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বাদীকে হুমকি বা অর্থের প্রলোভন দিয়েও নাজেহাল করছে।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার নারী নির্যাতন মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে উচ্চ আদালতে ধর্ষণ-সংক্রান্ত ৫০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া দেশের শিশু আদালতে এ-ুসংক্রান্ত ১৭ হাজার ৫০৬টি মামলা থাকলেও পৃথক কোনো আদালত নেই। নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে এর বিচার হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে গড়ে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৬৮৪টি। ফলে ১০১টি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ বিপুলসংখ্যক মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

তবে এসব মামলার সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা সুপ্রিম কোর্ট বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নেই। ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার ধর্ষণ-সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির এ-সংক্রান্ত ধারা চিহ্নিত করে তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর বলেন, ‘উচ্চ আদালতে ধর্ষণ-সংক্রান্ত ফৌজধারি কার্যবিধির ৯ (১), ৯ (২), ৯ (৩), ৯ (৪) এবং ১৮ ও ২২ ধারায় যে সব আপিল ও মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করে তালিকা প্রণয়নের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্নিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় মামলাগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং কী কারণে তা ঝুলে রয়েছে তা নির্দিষ্ট করা এবং চিহ্নিত কারণগুলো সমাধানের প্রস্তাবও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। তালিকাটি চূড়ান্ত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপিল মামলাগুলো দুই-তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, তালিকায় মামলার সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে প্রধান বিচারপতির কাছে হাইকোর্টে সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ নির্ধারণের জন্য অনুরোধ করা হবে।
বাড়ছে ধর্ষণ :বেসরকারি সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী কয়েক বছরে ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৮৯ জন নারী ও শিশু এবং ৪১ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। নয়জন ধর্ষণের ফলে আত্মহত্যা করেন। এ সময় ৩৬৩ শিশুও ধর্ষণের শিকার হয়। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ১১১ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আসকের প্রতিবেদন বলছে, ৮০ শতাংশ ধর্ষক ভিকটিমের পরিচিত অর্থাৎ আত্মীয়স্বজন, বাড়ির লোক এবং প্রতিবেশী।

এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৪০৬ জন ভিকটিম। বেসরকারি সংস্থা অধিকারের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ২০১৭ সালে ৭৮৩ জন, ২০১৬ সালে ৭৫৭ জন, ২০১৫ সালে ৭৮৯ জন, ২০১৪ সালে ৬৬৬ জন, ২০১৩ সালে ৮১৪ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আসক ও অধিকারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণে দেখা যায়, গত বছর দেশে ধর্ষণের হার দ্বিগুণ বেড়েছে। চলতি বছরের হিসাবে বলছে, প্রথম আট মাসেই ২০১৯ সালের ধর্ষণের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে ধর্ষণের ঘটনায় ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪১টি। এর মধ্যে আসামির শাস্তি হয়েছে মাত্র ৬০টি ঘটনায়।

‘ক্রসফায়ার সমাধান নয়’ :ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের ক্রসফায়ার দেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ফেসবুকে এ নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক কর্মসূচিও পালন করছে বিভিন্ন সংগঠন। তবে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড কখনোই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি সমকালকে বলেন, ‘ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত বিচার এবং যাথোপযুক্ত বিচার করতে হলে প্রসিকিউশন সেলকে ক্যাডার সার্ভিসে পরিণত করতে হবে। নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়তে হবে। বিচারকের সংখ্যা দ্বিগুণ করে অন্তত তিন হাজার ৬০০ করতে হবে। ১৮ কোটি মানুষের দেশে এক হাজার ৮০০ বিচারক যথেষ্ট নয়। এ জন্য বিচার বিভাগের অধীনে বাজেটও বাড়াতে হবে।’
তার মতে, ‘সুষ্ঠু বিচারের জন্য দক্ষ আইনজীবীকে প্রসিকিউশন ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। দলীয় বা ভাড়াটে প্রসিকিউশন দিয়ে ধর্ষণের দ্রুত ও যথোপযুক্ত বিচার করা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রসিকিউশন ব্যর্থ বলেই নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলায় অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি হচ্ছে না। যারা দলীয় রাজনীতি করে তারা দলীয় অপরাধীদের স্বার্থই রক্ষা করে থাকে।’

ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, ‘সমাজের জন্য দুর্নীতি যেমন ভয়াবহ, ধর্ষণও তেমন। আপাতত যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাঞ্ছনীয়।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন সমকালকে বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রধান কারণ এর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব জড়িয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে রাজনীতির নামে যারা দুর্বৃত্তায়ন করে তারা মনে করে, যে কোনো অপরাধ থেকে তারা সাজার ঊর্ধ্বে থাকবে। তাছাড়া আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রাজনৈতিক প্রভাবসম্পন্ন কোনো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সচেষ্ট নয়। এসব কারণে জঘন্য অপরাধগুলো ঘটছে।’

তার মতে, ধর্ষণের মতো অপরাধের ত্বরিত বিচারের জন্য যে ধরনের নিখুঁত তদন্ত দরকার, তাও হচ্ছে না। তদন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে বিচারও। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ধর্ষণ মামলার প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনা এখন অনেকাংশেই সহজ। ডিএনএ টেস্ট, ফিঙ্গার ইমপ্রেশনগুলো ব্যবহার করেও অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এখন দরকার দ্রুত সঠিক তদন্ত ও বিচার। এক্ষেত্রে আইন সংশোধন ও ধর্ষণের তালিকা প্রণয়নের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। তা ছাড়া ধর্ষণ-সংক্রান্ত আসামিদের সাজাও আমাদের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা উচিত।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘সময় মতো সঠিক তদন্ত না হওয়া ও প্রসিকিউশন শাখার ব্যর্থতায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলোর দ্রুত বিচার হচ্ছে না। আইন সংশোধন করে ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড যুক্ত করলেই হবে না, বিচার ও তদন্ত কাঠামোও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।’

সংশোধন হচ্ছে ডিজিটাল আইনও :নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সম্প্রতি এক নারীকে বিবস্ত্র করে পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করা হয়। ৩২ দিন পর গত ৪ অক্টোবর ওই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ হলে তা ভাইরাল হয়। প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে দেশবাসী।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম সমকালকে বলেন, ‘ধর্ষণ সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনা। নোয়াখালীর ঘটনাটি ধর্ষণকেও হার মানিয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা প্রয়োজন।’

টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইল ফোনে অডিও-ভিডিও রেকর্ড করে তা ফাঁস করার মতো অপরাধ ঠেকাতে আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এ জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ডাটা প্রাইভেসি রক্ষার বিষয়ে একটি ধারা যুক্ত করা হবে।
ভারত ও বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার :নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ। আর ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদ।

দেশে ধর্ষণের বিচারে ১৮০ দিনের সময়সীমা থাকলেও মামলাজটের কারণে সে অনুযায়ী বিচার পাওয়া দুরূহ। তবে ধর্ষণের বিচারে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ দুটি দেশেই একই ধারার ব্রিটিশ দণ্ডবিধির আওতায় বিচারব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের হায়দরাবাদে এক পশু চিকিৎসককে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করায় দেশটিতে আন্দোলন শুরু হয়। ওই প্রেক্ষাপটে অল্প্রব্দ প্রদেশ সরকার ‘দিশা আইন’ নামে দুটি বিশেষ আইন তৈরি করে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের বিষয়ে বিশেষ তদন্ত সংস্থা এবং আদালতের বিধান প্রবর্তন করে।

ওই আইন অনুসারে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্যক্রম নিষ্পত্তি করে মামলার রায় ঘোষণা করার বিধান আছে। অল্প্রব্দ প্রদেশ সরকার এরই মধ্যে ৩৬টি বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ছাড়া ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলায় ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০টি মামলার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ধর্ষণ ও যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে গত বছর একটি বিশেষ গাইডলাইন প্রণয়ন করে। এর আওতায় ভারত সরকার সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট হিসেবে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মামলার জন্য এক হাজার ২৩টি বিশেষ কোর্টের অনুমোদন দেয়। এতে প্রতিটি আদালতে গড়ে ১৬৭টি মামলা রয়েছে।