নাম না করে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে মহাভারতের দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করলেন বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। শুধু তাই নয়, নাম না করে মোদি-শাহ জুটিকে দেশের সবচেয়ে ভয়ংকর ‘টুকরে-টুকরে’ গ্যাং বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। একই সঙ্গে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়াও দেন অটল বিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাও। এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যশবন্ত। সম্প্রতি CAA, NRC নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছে কেন্দ্র সরকার। এমন পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর এই মন্তব্যে যে বিজেপি নতুন করে অস্বস্তিতে পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শুক্রবার পরপর দু’টি টুইট করেন যশবন্ত সিনহা। প্রথম টুইটে তিনি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুটিকে তুলোধনা করেন। টুইটার হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “দেশের সবচেয়ে ভয়ংকর টুকরে-টুকরে গ্যাংটির সদস্য দুজন, দুঃশাসন ও দুর্যোধন। আর তাঁরা দুজনেই বিজেপি। তাঁদের থেকে সাবধান থাকুন।” রাজনীতিবিদদের মতে, এই টুইটে নাম না করে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহকেই বিধেঁছেন তিনি। দিন কয়েক আগেই CAA, NRC নিয়ে দিল্লিতে বাড়তে থাকা অশান্তি নিয়ে সরব হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস ও শহুরে নকশালদের বিঁধে অমিত শাহ বলেছিলেন, “দিল্লির টুকরে-টুকরে গ্যাংয়ের শিক্ষা হওয়া উচিত।” সেই মন্তব্যের সূত্র ধরেই প্রাক্তন মন্ত্রী আক্রমণ শানালেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পরের আরেকটি টুইটে সেনাপ্রধানের মন্তব্যের বিরুদ্ধেও সরব হন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। টুইটার হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “অনেকভাবেই ভারতের গণতান্ত্রিক চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। তবে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করল। কুঁড়িতে এই প্রচেষ্টা নষ্ট করা উচিত।” বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিপিন রাওয়াত বলেন, “নেতৃত্বের অর্থ মানুষকে ভুল দিকে চালনা করা নয়। ইদানিং আমরা দেখছি বহু কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নেতৃত্ব বিভিন্ন মিছিল থেকে সাধারণ মানুষ শহরে-শহরে হিংসা, অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এটা একেবারেই সঠিক নয়।” বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের মন্তব্য খুবই রাজনৈতিক।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে বিজেপি ছাড়েন যশবন্ত সিনহা। সেসময় টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, “দলের এখনকার পরিস্থিতির দেখে দল ছাড়ছি। দেশের গণতন্ত্র বিপদে।”