ত্বকে ব্রণ হয়না, এমন মানুষ খুব কমই আছে। নানাভাবে এই ব্রণ দূর করা গেলেও এর দাগ ত্বকে থেকে যায়। আর এই ব্রণের দাগের অন্যতম কারণ হল ক্ষতিগ্রস্থ ত্বকের কোষ। ব্রণ হবার পর আমরা যখন ব্রণকে হাত দিয়ে টিপে টিপে বের করি বা গেলে দেই, তখন সেই স্থানে দাগ ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ব্রণের বাদামী, কালো লালচে এই তিন ধরনের দাগ হয়ে থাকে। ব্রণ ভাল হবার পর সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে দাগ এমনিতেই চলে যায়। এখন আমরা এমন কিছু নিয়ম অনুসরণ করব, যাতে ব্রণের দাগ খুব দ্রুত চলে যাবে। কারণ এই নিয়মগুলি অনুসরণ করলে আমাদের স্কিন দ্রুত রিজেনারেট হবে।

অ্যালোভেরা জেলঃ

অ্যালোভেরা জেল ব্রণের দাগ দূর করতে খুবই কার্যকর। কারণ এর মধ্যে আছে ৭৫-৮০ রকমের ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম, যা খুব দ্রুত ব্রণের দাগ সারাতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের কোলাজেন সিন্থেসিসকে বুস্ট করে ত্বকের রিজেনারেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া এটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগান দিয়ে ত্বককে অনেক স্বাস্থ্যবান করে তোলে। অ্যালোভেরা জেল ত্বককে সান ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ খুব দ্রুত দূর হয়ে যাবে।

আপেল সিডার ভিনেগারঃ

ব্রণের দাগ ভাল করার আরো একটি যুগান্তকারী উপাদান হল আপেল সিডার ভিনেগার। কারণ এতে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট ও এনজাইম যা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।আপেল সিডার ভিনেগার ত্বকের তেলের প্রডাকশন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি মৃত ত্বকের কোষ সরাতে সাহায্য করে। এটিও ত্বকের রিজেনারেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তাই আপেল সিডার ভিনেগার ১ চামচ ও এর সাথে ১ চামচ পানি যোগ করে এই মিশ্রনটি একটি তুলা দিয়ে ব্রণের দাগের উপর লাগিয়ে রাখতে হবে। এভাবে এটি ৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা জেল লাগাতে হবে। এটি সপ্তাহে ৩ দিন করতে হবে।

শশাঃ

শশাতে থাকা পিএইচ আর আমাদের ত্বকে থাকা পিএইচ এর পরিমাণ সমান। এটি ত্বকের কোষকে হাইড্রেট করে থাকে।আর এটিও ত্বকের রিজেনারেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তাই একটি শশা স্লাইস করে কেটে নিয়ে সেই স্লাইস দিয়ে পুরো ত্বক ঘষে ঘষে ত্বকের উপর একটি লেয়ার তৈরী করতে হবে। এরপর দাগযুক্ত স্থানে শশার টুকরো লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর ৩০ মিনিট পর মুখ ভাল্ভাবে পরিষ্কার করে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা জেল লাগাতে হবে। এটি সপ্তাহে ৩-৪ দিন করতে হবে।

লেবুর রস ও আলুর রসঃ

১ চামচ লেবুর রস অথবা ১ চামচ আলুর রসের সাথে ১ চামচ পানি মিশিয়ে সেটি ত্বকের দাগে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এতেও খুব তাড়াতাড়ি ব্রণের দাগ দূর হয়ে যাবে। কারণ এগুলোতে আছে ভিটামিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট। এরপর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা জেল লাগাতে হবে। এটিও সপ্তাহে ৩ দিন করতে হবে।

মুলতানী মাটির ব্যবহারঃ

৩ চামচ মুলতানী মাটি, ১ চামচ লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করে সেটি ব্রণের দাগে লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর ৩০ মিনিট পর ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে। মুলতানী মাটি ত্বকের মৃত কোষকে দূর করে ও ত্বকের উজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া এটি ব্ল্যাকহেডস হোয়াইট হেডস দূর করে। এছড়া এটি ত্বকের সান টান দূর করে। আর লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি ও সাইট্রিক এসিড যা ব্রোনের দাগ কমাতে খুবই কার্যকর। এটি সপ্তাহে ২ দিন করলেই যথেষ্ট। এটি ব্যবহারে খুব দ্রুত দাগ দূর হয়ে যাবে।

ব্রণের দাগ দূর করতে যেসকল বিষয় মনে রাখতে হবেঃ

১। উপরের যেকোন একটি ব্যবহারের আগে ত্বক ফেসওয়াশ দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

২। প্রতিদিন যেকোন ১ টি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এক সাথে সবগুলো ব্যবহার করা যাবে না। মনে রাখতে আমাদের মুখের ত্বক খুবই পাতলা। তাই তাড়াহুড়া করে দাগ ভাল করতে যেয়ে বেশি বেশি বা ঘন ঘন ঘষে ঘষে এগুলই অ্যাপ্লাই না করে ধৈর্য সহকারে যেকোন একটি নিয়ম প্রতিদিন অনুসরণ করতে হবে।

৩। চিনি জাতীয় খাবার, কোল ড্রিংস যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। কারণ এগুলি ত্বকের গ্রোথ হরমোন প্রডাকশন কমিয়ে দেয়। তাই তখন ত্বক রিজেনারেট হতে সময় লেগে যায়।

৪। সরাসরি সূর্যের আলোতে না যাওয়াই ভাল হবে।

৫। রাতে ঘুমানোর ৩ ঘন্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে।

উপরের এই নিয়মগুলি অনুসরণ করলে খুব দ্রুত ব্রোণের দাগ দূর হয়ে যাবে।