ধর্ষণ ও এতে সহায়তা করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। এ নিয়ে একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে নুর ও তাঁর সহযোগীদের শাস্তি দাবি করে তোপের মুখে পড়েছেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুজহাত ফারিয়া রোকসানা।

ওই ছাত্রী দাবি করেন, ‘মামলার সঙ্গে আমি কোনোভাবে সম্পৃক্ত না থাকলেও নুরের সহযোগীরা আমাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে কুৎসা রটাচ্ছেন। এতে করে আমি এবং আমার পরিবার সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি।’

নুজহাত ফারিয়া রোকসানা বলেন, ‘ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত নুরের শাস্তি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তাঁর অনুসারীরা তাদের ফেসবুকে এবং কোটা সংস্কার গ্রুপে আমার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিচ্ছে।’

‘মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেয়ে, আমি ইডেনে পড়ি। অথচ আমার ছবি ব্যবহার করে নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট কুৎসা রটাচ্ছে, যা একজন নারীর জন্য অপমানজনক ও অবমাননাকর। আমি এই কুরুচিশীলদের বিপক্ষে অতিদ্রুত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি,’ বলছিলেন ওই ছাত্রী।  

এ বিষয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর এনটিভি অনলাইকে বলেন, ‘আমি জানি না, কে বা কারা এটা করছে। তবে আমাদের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কেউ এটা করেনি।’

বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে নুর বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে অনেকেই অনেকভাবে অনেক কিছু নিজ থেকে করে। তবে তাঁকে নিয়ে যেন কোনো ধরনের কুৎসা রটনা না করে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলব।’ 

নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত দুদিনে রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী। মামলায় পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং হেয়প্রতিপন্ন করে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার করার অভিযোগ আনা হয়।