চুল পড়া ও চুল পাতলা হয়ে যাওয়া প্রতিটি মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা। সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের চুল পড়তে থাকে। আর ঐ চুল পড়া জায়গায় আর চুল না গজানোর জন্য ধীরে ধীরে আমাদের স্ক্যাল্প ফাকা হতে শুরু করে ও চুল পাতলা হয়ে যায়। যা দেখতে খুবই বাজে দেখায় আর আমাদের মধ্যে নিজের প্রতি কনফিডেনস লেভেল জিরো হয়ে যায়। অনেকের আবার চুল পড়তে পড়তে পুরো মাথা ফাকা হয়ে যায়।

কি কি কারণে চুল পড়েঃ

অস্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়া, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, দুশ্চিন্তা, পুষ্টির ঘাটতি, বিভিন্ন হরমোনগত সমস্যা, এলার্জী, বংশগত ইত্যাদি নানাবিধ কারণে আমাদের চুল পড়ে। এই চুল পড়া সমস্যা কিছু নিয়ম মেনে চলে আর কিছু উপাদান ব্যবহার করে দূর করা সম্ভব। আর এই ভাবে খুব সহজেই চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব ও নতুন চুল গজানো সম্ভব। এটা ১০০% কার্যকরী।

চুল পড়া রোধ করে নতুন চুল গজিয়ে পাতলা চুল ঘন করার খুব সহজ উপায়সমূহঃ

দুশ্চিন্তা বাদ দেওয়াঃ

চুল পড়া বন্ধ করার জন্য প্রথমেই যেটা প্রয়োজন তা হল দুশ্চিন্তা বাদ দেওয়া। দুশ্চিন্তা চুলের সবচেয়ে বড় শ্ত্রু। এতে মানুষ টাক পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই এটি বাদ দিতে হবে। দুশ্চিন্তা কাটাতে নিয়মিত ব্যায়াম করা যেতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমেও দুশ্চিন্তা দূর করা সম্ভব।

চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াঃ

চুল পড়ার অন্যতম কারণ হল চুলের জন্য পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া। চুলের পুষ্টির জন্য খাবার গুলো নিয়মিত খেলে চুল পড়া বন্ধ হবে ও নতুন চুল গজাবে। চুলের পুষ্টির জন্য প্রোটিন, বায়োটিন, আয়রন, ভিটামিত সি, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি১২, ফলিক এসিড ও ভিটামিন এ যুক্ত খাবার খেতে হবে। এই খাবার গুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকলে ১ মাসের মধ্যে চুলের মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। এই খাবার গুলো নিয়মিত খেলে চুল গজানোর সাথে সাথে চুলের বৃদ্ধিতেও অনেক কাজে আসবে। এবার দেখা যাক কি কি খাবারে এই উপাদান গুলি আছে।

প্রোটিনঃ ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগীর বুকের মাংস, ডাল

বায়োটিনঃ ডিম, বাদাম, কলা, টমেটো

আয়রনঃ গরুর কলিজা, পালং শাক, ডিম, বেদানা, ব্রকলি

ভিটামিন সিঃ পেয়ারা, লেবু, ক্যাপসিকাম

সেলেনিয়ামঃ বাদাম, ডিম, লিভার, মুরগীর বুকের মাংস, পালং শাক

ভিটামিন বি১২ঃ লিভার, ডিম, চিকেন

ফলিক এসিডঃ মশুরের ডাল, পেপে, ব্রকলি, শাক সবজি

ভিটামিন এঃ মিষ্টি আলু, লাউ, গাজর, ব্রকলি, পালং শাক।

চুল গজাতে প্রয়োজনীয় ব্যায়ামঃ

চুল পড়া দূর করে নতুন চুল গজানোর আরো একটি উপায় হল নিয়িমত ব্যায়াম । আর ব্যায়ামের মধ্যে সবথেকে গুরত্বপূর্ণ ব্যায়াম হল বুক ডাউন দেওয়া। যেটা প্রতিবার ব্যায়ামে ৩ সেটে ১০ বার করে মোট ৩০ বার করতে হবে। আর সাথে করতে হবে হেয়ার স্ট্যান্ড ব্যায়াম। এটি প্রতিদিন ৫ মিনিট ধরে করতে হবে। এই ব্যায়াম গুলো নিয়মিত করার ফলে মাথায় ব্লাড সারকুলেশন ভাল হবে। যার ফলে ১ মাসের মধ্যেই চুল পড়া স্থানে নতুন চুল গজাতে শুরু করবে। কারণ মাথায় ব্লাড সারকুলেশন ধীর গতির হলে কখনোই নতুন চুল গজাবে না। তাই এটি খুব জরুরী।

ডিম ও নারিকেল তেলের মিশ্রণ প্রয়োগঃ

চুল পড়া সমস্যা কাটিয়ে নতুন করে দ্রুত চুল গজানোর একটি অন্যতম উপায় হল ডিম ও নারিকেল তেলের মিশ্রণ। একটি ডিম একটি বাটিতে ভেঙ্গে নিয়ে, এর সাথে ১ চামচ নারিকেল তেল ভালভাবে ১০ সেঃ ধরে মিক্সড করে নিতে হবে। এরপর এই মিশ্রণটিকে ভালভাবে চুলের গোড়ায় ২ মিনিট ধরে লাগাতে হবে। এরপর এভাবে এটি চুলে লাগিয়ে রেখে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। ডিমের মধ্যে আছে প্রোটিন, যা চুলকে অনেক ঘন ও শক্তিশালী করে। আর নারিকেল তেলের মধ্যে আছে ভিটামিন ও ফ্যাটি এসিড যা চুল গজাতে সাহায্য করে। আর এভাবে এটি সপ্তাহে ২ দিন প্রয়োগ করতে হবে। ১ থেকে ২ মাস ব্যবহারে আমূল উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে। চুল হবে আগের থেকে অনেক ঘন ও শক্তিশালী।

চুল ঘন করতে অ্যালোভেরাঃ

একটি অ্যালোভেরার পাতা থেকে একটি চামচ বা ছুড়ির সাহায্যে জেল বের করে খুব ভালভাবে পেস্ট করে নিতে হবে। এরপর এটি মাথার চুলে মেখে ২০ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। অ্যালোভেরা মাথার স্ক্যাল্পের মৃত কোষ গুলিকে জাগ্রত করে। এছাড়া এটি চুলের গোড়া মজবুত করে ও চুলের বৃদ্ধি তড়ান্বিত করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এই পেস্টটি সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করলেই খুব অল্প দিনের মধ্যে ফলাফল বোঝা যাবে।

উপরের এই সব নিয়ম অনুসরণ করে খুব সহজেই চুল পড়া সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ চুল পড়া স্বাভাবিক। যে জায়গায় চুল পড়ে, সেই জায়গায় আবার নতুন চুল গজায়। কিন্তু এর থেকে বেশি পড়লেই বিপদ। আবার অনেকের শুধু চুল পড়েই যায়, কিন্তু নতুন করে চুল বের হয় না। আর ধীরে ধীরে সেই জায়গাটিতে চুল অনেক পাতলা হয়ে যায়। তাই, উপরের নিয়মগুলি প্রতিদিন অনুসরণ করলে এই সমস্যার ১০০% সমাধান পাওয়া যাবে। এতে যেমন চুল পড়া বন্ধ হবে, তেমনি নতুন চুল গজিয়ে চুল অনেক ঘন হয়ে যাবে।