গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে দেশের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তবে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত কেন নিতে হলো সে প্রশ্ন উঠছে।

রপ্তানি নিষিদ্ধের কারণ হিসেবে যা জানা যাচ্ছে সেটার সারকথা মূল্যবৃদ্ধি। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত আগস্ট থেকেই ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। তখন এক কেজির দাম ছিল ২৫ রুপি।

আর অক্টোবরের শুরুতে এর দাম উঠেছে ৮০ রুপিতে। সংকট মোকাবেলায় বিজেপি সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে, যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমে আসে।

রপ্তানি নিষিদ্ধের পেছনে প্রধান যেসব কারণ

কিছুদিন আগে প্রবল বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল কর্ণাটক। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে ক্ষেতের পেঁয়াজ। ফলে যে পেঁয়াজ এখন বাজারে আসার কথা ছিল, তা আসেনি। বৃষ্টিতে একইভাবে পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের মতো রাজ্যেও।

এ ছাড়া বৃষ্টিতে গুদামে রাখা পেঁয়াজেও পানি ঢুকে গেছে। ফলে সেই পেঁয়াজও পচেছে। তাই যে পেঁয়াজ এখন পাইকারি বাজারে ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, মহারাষ্ট্রে তা হচ্ছে ৩০ টাকায়। মহারাষ্ট্রের বাইরে আরো বেশি দামে।

মহারাষ্ট্রকে বলা হয় ভারতের পেঁয়াজভাণ্ডার। সবচেয়ে বেশি ও ভালো মানের পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সেখানে। মহারাষ্ট্রের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি ৩০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার।

মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাসালগাঁওর বাজারে পেঁয়াজের গড় মূল্য প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসে পাইকারি বাজারে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ছিল ১৫০০ রুপি। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ৩০০০ রুপি।

খুচরা বাজারে জুনে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ রুপি। এখন সেটা বেড়ে ৩৫-৪০ রুপিতে লেনদেন হচ্ছে। ফলে দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কোনো বিকল্প ছিল না ভারত সরকারের হাতে।

নভেম্বরের শুরুতে মহারাষ্ট্রে নতুন ফসল বাজারে না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

লকডাউনও বড় একটা কারণ। লকডাউনের সময় মাঠে ফসলের কাজ করার লোক ছিল না। ফলে উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। যা হয়েছে, সেটাও ঠিকভাবে বাজারে নিয়ে আসা যায়নি। ফলে পেঁয়াজে মূল্যবৃদ্ধি অনেকটা অবশ্যম্ভাবী ছিল।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারগুলো থেকে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ছিল অস্বাভাবিকভাবে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশ, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে। দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় হঠাৎই প্রবল বৃষ্টিপাতে দেশটির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ফলে দেশটি থেকে বিপুল চাহিদা ছিল। এই মুহূর্তে দুবাই বন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজের অবতরণ ব্যয় প্রতি কেজি প্রায় ৩২-৩৫ রুপি, যার ফলে অনেক রপ্তানিকারকই সেদিকে ঝুঁকছিল। ফলে রপ্তানি নিষিদ্ধ করা না হলে ভারতকে অচিরেই বড় সংকটের মুখে পড়তে হতো।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000