গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত তিনটি মরশুমই এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশ-সহ পুরো উত্তর ভারতের বাসিন্দারা। প্রথমে বর্ষার জেরে বহুদিন জলমগ্ন ছিল উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চল। এখন আবার ঠান্ডার প্রকোপে কাঁপছে সেখানকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে পুরনো সব ইতিহাস টপকে ঠান্ডার রেকর্ড গড়েছে রাজধানী দিল্লি। আর ইতিমধ্যে ঠান্ডার প্রকোপে উত্তরপ্রদেশে কমপক্ষে ২৮ জনের মৃত্যুর খবর গিয়েছে। আর বিহারে ১১ জন ও ঝাড়খণ্ডে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি না বদলালে গোটা দেশে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের রাজধানী দিল্লিতে শনিবার সকাল থেকে সেখানে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ২.৪ ডিগ্রির আশপাশে। শহর ছাড়িয়ে বাইরে বেরোলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে দিল্লিতে এই রকম ঠান্ডা পড়েছিল ১৯০১ সালে। তারপর থেকে কোনওদিন এই অবস্থা হয়নি।

কিন্তু, এবার প্রবল শৈত্যপ্রবাহের(cold wave) জেরে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ানক হয়ে উঠেছে। চারিদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হওয়ায় কমেছে দৃশ্যমানতা। ফলে প্রভাব পড়েছে রেল, সড়ক ও বিমান পরিবহণে। অবস্থা সামলাতে ইতিমধ্যেই নাইট শেল্টারগুলিতে ঠান্ডা প্রতিরোধের সবরকম ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার।

অন্যদিকে দিল্লির পাশাপাশি প্রবল ঠান্ডায় জবুথুবু হয়ে পড়েছে উত্তর ভারতের মানুষও। ইতিমধ্যে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও বুন্দেলখণ্ডে ১৭ জন, কানপুরে ১০ জন ও বারাণসীতে চারজন মোট ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিভিন্ন নাইট সেল্টার পরিদর্শনে গিয়ে আবাসিকদের কম্বল বিতরণ করেন৷