সোস্যাল মিডিয়া ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম লাইকিতে দুইটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মোজাম্বিক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক মিজানুর রহমান নীল (২৪)। একজন বাংলাদেশি পতেঙ্গার পার্লার ব্যবসায়ী ঐশী মির্জা (২১) ও অপর জন চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকার কলেজছাত্রী ফৌজিয়া আনোয়ারের (২২)। একটি সময় মিজানুর তাদের দুইজনকে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ধার দেন। কিন্তু সেই টাকা আর তাদের কাছ থেকে আদায় করতে না পেরে লাইকি লাইভে এসে আত্মহত্যা করেন।

মিজানুর গত ১০ মার্চ বেলা ১১টায় সে দেশের একটি স্থানীয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব কাহারঘোনার হাজি সিদ্দীক আহাম্মেদের ছোট ছেলে।

মিজানুরের বড়ভাই প্রবাসী মো. ওমর কাজী ঘটনার বিবরনীতে বলেন, মিজানুর লাইকির মাধ্যমে ফৌজিয়া আনোয়ারের (২২) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তার ঐশী মির্জার (২১) সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিনি জানান তার ভাই এই দুই প্রমিকাকে বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় টাকা ধার দিতে থাকে। কিন্তু তারা আর কোন টাকাই তাকে পরিশোধ করে না। এমনকি ফেরত চাইলে তারা সেই টাকা দিতে অসীকৃতি জানায় ও তাদের দুই জনের সাথেই তার সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। এ রমক সময় ঐশীকে লাইকিতে লাইভে রেখে মিজান কীটনাশক খেয়ে ফেলে। কীটনাশক খাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

মিজানুরের বড় ভাই আরো বলেন, তার ছোট ভাইকে তারা খুব ভালবাসত। তারা বড় তিন ভাই ২০১৪ সালে তাদের ছোট ভাই মিজানকে মোজাম্বিকে নিয়ে আসে। তার ৪ ভাই মিলে সেখানে ব্যবসা করত। মিজান তাদের সকল টাকার হিসাব নিকাশ করত। তারা তাদের ভাইকে হারিয়ে খুব মর্মাহত। সে জানায়, টাকা গেছে সেটা বড় না, বড় হল তাদের ভাই আর এই পৃথিবিতে নেই।

এদিকে মোজাম্বিক পুলিশ বাংলাদেশের পুলিশের সাথে মিলিত হয়ে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন। তারা ইতিমধ্যে মিজানের এক প্রেমিকা ঐশী মির্জাকে ফোন করেও তাকে পাননি। পরে ঐশী মির্জা তার মোবাইলটি বন্ধ করে দেয়। আর আরেক প্রেমিকা ফৌজিয়া আনোয়ারকে ফোন করলে সে জানায় পরে আদালতে কথা হবে।