নিখোঁজের এক মাস পর শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের মাগুরার শ্রীপুরের মহেশপুর গ্রাম থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  ওই যুবককে গলা কেটে হত্যার পর প্রেমিকার বাড়ির উঠানে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

নিহত পিকুল বিশ্বাস উপজেলার চৌগাছি গ্রামের উকিল বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ জানায়, মহেশপুর গ্রামের কাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে মোশারফ হোসেন প্রবাসে থাকায় স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে পিকুলের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরখানেক আগে ওই প্রবাসী দেশে ফিরে এলেও তার স্ত্রী পরকীয়া চালিয়ে যেতে থাকেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও কোনো ফল হয়নি। পরে তারা বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়। 

একপর্যায়ে রাজিয়ার স্বামী মোশারফ পিকুলকে তার সামনে হাজির করার জন্য স্ত্রীকে শর্ত দেয়। পরে ৩ মার্চ রাতে স্বামী বাড়িতে নেই বলে রাজিয়া প্রেমিক পিকুলকে কৌশলে তার বাড়িতে আসতে বলে। বাড়িতে আসার পর প্রেমিকা রাজিয়া স্বামীর কথা মতো পিকুলকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পিকুল ঘুমিয়ে পড়লে রাজিয়া তার স্বামীকে ডেকে এনে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উঠানের টিউবওয়েলের পাশে খোঁড়া ১২ ফুট গভীর গর্তে বিছানাপত্র ও তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটসহ পিকুলের মরদেহ মাটি চাপা দেয়।

এ দিকে গত ২ মার্চ পিকুল তার সিঙ্গাপুরগামী এক আত্মীয়কে বিমানে তুলে দিতে ঢাকায় যায়। ৩ মার্চ দুপুর পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ ছিল। এরপর থেকে পরিবার তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পিকুলের ভায়রা মামুনুর রশীদ গত ৭ মার্চ গাজীপুরের কাশিমপুর থানায় জিডি করেন।

জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রাজিয়া ও তার স্বামীকে মোশারফকে আটক করে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পিকুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। 

স্বীকারোক্তি অনুসারে মাগুরার এসপি খান মোহাম্মদ রেজোয়ান শ্রীপুরের ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াছিন কবীরের উপস্থিতিতে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার রাত ১টায় ১২ ফুট মাটির নিচ থেকে পিকুলের মরদেহ উদ্ধার করেন। রাতেই মরদেহটি মাগুরা মর্গে পাঠানো হয়। 

মাগুরার এসপি খান মোহাম্মদ রেজোয়ান জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।