এক স্বামীর স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে আরো চার বছর আগে। শুরুতে বেশ ভালোই চলছিল দুজনের। তবে একসময় এসে সব কিছু যেন কেমন হয়ে গেলো। তছনছ হয়ে গেলো পুরো সংসার।

সজল দাস। তিনি ভারতের নদিয়ার নবদ্বীপের মাজদিয়া মাঠপাড়ার বাসিন্দা। স্ত্রী মিঠু দাসের সঙ্গে তারই বিয়ে হয়েছে চার বছর আগে। শুরুতে সব কিছু ঠিক চলছিল তাদের। প্রচণ্ড ভালোবাসতেন দুজন দুজনকে। কিন্তু হঠাৎ কিছুদিন ধরে সজল লক্ষ্য করছিলেন তার স্ত্রী কেমন জানি বদলে গেছেন। প্রথমে সজল কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরে তিনি ঠিকই বুঝতে পারলেন, তার স্ত্রী গোপনে কারো সঙ্গে প্রেম করছেন।

এদিকে, কোনো কিছুই না বলে সজল স্ত্রীকে চুপেচুপে আরো স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন, কার সঙ্গে প্রেম করছে সে। পরে সে ঠিকই বুঝতে পারলেন, বিয়ের চার বছর পরে এসে সেই প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে পরকীয়া করছেন স্ত্রী। পরে সজল মাথা গরম না করে এক অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। তিনি নিজেই স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। পরে নিজ উদ্যোগে প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীর রেজিস্ট্রি করিয়েছেন। এমনকি বিয়ের রেজিস্ট্রির টাকা এবং রেজিস্ট্রি শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত থেকে সবকিছু পরিচালনা করেছেন সজল নিজেই। আর এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটিয়ে এরই মধ্যে তিনি প্রশংসার দাবীদার হয়েছেন পুরো এলাকাজুড়ে।

এদিকে, সব কাজ শেষ করে যখন শূন্য হাতে ঘরে ফিরলেন সজল। এরপর থেকে পুরো চার বছরের স্মৃতি তার মাথায় ঘুরতে থাকলো। সজল কোনভাবেই মানতে পারছিলেন না, কীভাবে কি হয়ে গেলো! তখন পুরনো ছবি আর স্মৃতি তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। তবে সজল বুঝতে পেরেছিলেন, যে ভালোবাসা প্রকৃত নয়, সে ভালোবাসা জোর করে রাখা উচিত নয়। তাই সে নিজ হাতে সব কিছু করে এলাকায় অন্যরকম নজির গড়লেন।

মূলত, ভালোবাসা মানে তো কাউকে জোর করে ধরে রাখা নয় বরং সে যেন ভালো থাকে সেটা করতে দেয়া। তবে আমরা ক’জনে সজলের মত সেক্রিফাইস করতে পারি। তবে সজল এটাও বুঝতে পেরেছিলেন যে, মিঠু চার বছরের কোনদিন তাকে ভালোবাসেনি বরং শুধু অভিনয় করেছে। তাই তার ইচ্ছে, এবার অন্তত সত্যিকারে কাউকে ভালোবেসে তার বউ সংসার করুক। তাই সে এই মহৎ কাজটি নিজ হাতে করেছেন।