ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গঙ্গাশ্রম এলাকার জোড়া ব্রিজের নিচে একটি লাগেজের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেটাও আড়াই মাস আগে। এ নিয়ে নানা তদন্ত হয়, কিন্তু পুলিশ কিছুতেই অজ্ঞাত লাশে পরিচয় সনাক্ত করতে পারছিল না। এমনকি মৃত্যুর কারণও জানতে পারছিলেন না। অবশেষে সেই লাশ উদ্ধারকৃত লাগেজের ভেতর থেকে একটি প্রেসক্রিপশন পায় তদন্তকারী পুলিশ। এর সূত্র ধরে আসামী বের করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানায়, লাশটি ছিল, সাবিনা নামের এক গৃহকর্মীর। সে য়মনসিংহ নগরীর তৈমুর টাওয়ারে থাকা এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ও তার স্ত্রী ঘরে কাজ করত। সেই দম্পতি সাবিনাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে। এরপর তারা অত্যন্ত সুকৌশলে লাশটি গুম করার জন্য একটি লাগেজে ভরে গৌরীপুর এলাকায় ফেলে আসে। পিবিআই এ ব্যাপারে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই দম্পতি হলেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সোহাগ ও তার স্ত্রী জেসি।

এর মধ্যে গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই সূত্র আরো জানা যায়, নিহত গৃহকর্মী সাবিনা বাড়ি সদর উপজেলার উজান ঘাঘরা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম সিরাজুল ইসলাম সিরু। ৩-৪ বছর আগে সাবিনা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সোহাগের বাসায় কাজে আসে। কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সাবিনাকে অনেক নির্যাতন করত এই দম্পতি। এরপর সাবিনা অনেকবার পালানোর চেষ্টাও করেছিল। এরপর গত ৮ নভেম্বর সাবিনাকে নগরীর তৈমুর টাওয়ারে খুন করে এই দম্পতি। এরপর তার লাশ লাগেজে করে গৌরীপুর এলাকার গঙ্গাশ্রম এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। লাগেজে কয়েকটি ইটের টুকরাও ঢুকানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. আবুল কাশেম, জানান, লাগেজের ভেতর একটি ছোট পকেটে পাওয়া যায় একটি প্রেসক্রিপশন। তার সূত্র ধরে গত বুধবার রাত ৮টার সময় ময়মনসিংহ শহরের বারেরা এলাকা থেকে আব্দুল কদ্দুসের ছেলে আবুল খায়ের মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহাগ (৪৪) এবং তার স্ত্রী রিফাত জেসমিন ওরফে জেসিকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে গৌরীপুরের গঙ্গাশ্রম এলাকার জোড়া ব্রিজের নিচে পাওয়া লাগেজবন্দি অজ্ঞাত মেয়ের হত্যাকাণ্ডের রহস্য। নিহত সাবিনার বাবা মা মেয়ের এমন খবর শুনে শোকে বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।