আবর্জনার মধ্যে শিশুর কান্না। তার উপর স্থান শ্মশানঘাট। ওরে বাবা, ভয়ে তিন জনেরই শরীরে ঝিম ধরা ভাব। তারপরও একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে সাহস করে শ্মশানঘাটে এগিয়ে যাওয়া।

যেয়েই দেখি বাজার করার পরিত্যক্ত ব্যাগে জীবিত নবজাতক নড়াচড়া করছে। পিঁপড়ায় খাচ্ছিল শিশুটিকে।

যন্ত্রণায় নবজাতকটি কান্নাকাটি শুরু করে। এভাবে এক নবজাতককে উদ্ধারের কথা জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার গোলখালি গ্রামের ইসরাইল বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার ও পঞ্চানন মন্ডল।

আজ রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তারালী ইউনিয়নের গোলখালি গ্রামের মহাশ্মশান নবজাতক উদ্ধারের এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

পথচারী ইসরাইল বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার ও পঞ্চানন মন্ডল জানান, তারা প্রতিদিনের মত শ্মশানের পাশের রাস্তা ধরে মাছের ঘেরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে গোলখালি মহাশ্মশান এলাকায় ময়লাযুক্ত স্থানে একটি বাজার ব্যাগে নড়াচড়াসহ কান্নায় শব্দ শুনতে পায়।

এ সময় তারা ভয়ে ভয়ে সেখানে যেয়ে ওই ব্যাগ খুলে দেখে একটি নবজাতককে পিঁপড়ায় খাচ্ছে। রাতে লোকজন খবর দিয়ে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া নবজাতকটি ছেলে সন্তান। শিশুটি এখন সুস্থ রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ২/৩ ঘণ্টা আগেই ওই নবজাতকের জন্ম হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, নবজাতকটি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবজাতকটিকে দত্তক প্রদান করা হবে।