কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় হারুন অর রশীদ ওরফে সুজন মিয়া (২২) নামে মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন তার ওয়ায়েজ উদ্দিন। পুলিশে সোপর্দ করার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণ করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান। সুজন মিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরখামা গ্রামের ওয়ায়েজ উদ্দিনের ছেলে।

জানা গেছে , গত চার বছর ধরে সুজন মিয়া মাদক সেবন করে যাচ্ছে। নেশার টাকার জন্য সুজন বাড়ি থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রি করে দেয়। আর এসবে বাধা দিতে গিয়ে তার বাবা-মাও মারধরের ও সহিংস আচরণের শিকার হচ্ছিলেন।

প্রাণপ্রিয় সন্তানের সহিংস আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে বৃহস্পতিবার পিতা ওয়ায়েজ উদ্দিন নিজেই পাকুন্দিয়া থানায় নিয়ে গিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ সময় পাকুন্দিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম এবং সুজনের পিতা ওয়ায়েজ উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পিতা ওয়ায়েজ উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, ২০১০ সালে তার ছেলে সুজন মিয়া এসএসসি পাশ করে। পরে সঙ্গ দোষে সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।

তাকে ভাল পথে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেও কোন ফল হয়নি। বরং নেশার টাকার জন্য সে এতোটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠে যে, বাঁধা পেলে তাকে (বাবাকে) এবং তার মা-কেও অবলীলায় মারধর ও নির্যাতন শুরু করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, সুজন সন্দেহাতীতভাবে মাদকাসকক্ত প্রমাণিত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮এর ( ৪২) ধারায় তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।