সর্ষের তেলের গুণ যেমন রান্নার ক্ষেত্রে রয়েছে, তেমনি প্রতিদিনের অনেক ছোটখাটো সমস্যাতে এর প্রয়োগ আছে। সর্ষের তেলে ত্বক ভালো হয়, ঠাণ্ডা থেকে বাঁচায়, ব্যথায় উপশম দেয়।

ঠাণ্ডা থেকে বাঁচায় : ছোটখাটো ঠাণ্ডা আমাদের সবারই লাগে। তার জন্যে আমরা কেউ ডাক্তারের কাছে যাই না। সর্ষের তেল এই ঠাণ্ডা লাগলে কষ্ট থেকে বাঁচায়। দুই হাতে তেল নিয়ে ভালো করে বুকে ম্যাসেজ করুন। আরাম পাবেন সাথে বুকের জমা কফ বেরোতে বা কমতে সাহায্য করবে। একই সাথে বন্ধ নাক খোলার জন্যে এক বাটি জল নিয়ে কোয়েল ফোঁটা সর্ষের তেল ফেলুন। এবার পানি একটু গরম করে তার ভাপ নিন। দেখবেন বন্ধ নাক খুলে গেছে। ছোটো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সর্ষের তেল দিয়ে এই বুকে বা পায়ের তলায় মালিশ খুবই কার্যকরী।

ত্বকের জন্যে : সর্ষের তেলের মধ্যে আছে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড, এবং পরিমাণ মতো ভিটামিন এ। ত্বকের ব্রণ হোক বা ট্যান পড়া, সব ক্ষেত্রেই সর্ষের তেল কাজে দেবে। অল্প পরিমাণে সর্ষের তেল হাতে নিয়ে ভালো করে ম্যাসেজ করুন আপনার ট্যান পড়া জায়গায়। তারপর তুলো পানিতে ভিজিয়ে আস্তে আস্তে মুছে নিন। কিছুদিনের মধ্যেই চোখে পড়ার মতো উপকার দেখতে পাবেন। অনেকে ব্রণের জন্যে চিন্তিত। ব্রণ কমে গেলেও দাগ থেকে যায়। এর সহজ সমাধান আছে। দু চামচ সর্ষের তেল নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ নারকেল তেল মেশান। এর মধ্যে এক চামচ লেবুর রস আর দু চামচ টক দই দিয়ে একটা প্যাক বানিয়ে মুখে মাখুন। মিনিট দশেক পর ধুয়ে ফেলুন।

আর্থ্রাইটিসের উপশম : ব্যথায় অনেকেই জর্জরিত। পেইনকিলার নিয়ে দিনের পর দিন কাটাচ্ছেন। এর থেকে নিরাময়ের জন্যে একবার এই অতি পরিচিত তেলের উপর বিশ্বাস করে দেখতে পারেন। সর্ষের তেল আর আদা এই দুটোতেই এমন উপাদান থাকে যা প্রদাহজনিত উৎসেচকের ক্রিয়ার গতি কমিয়ে তোলে। ফলে ব্যথার থেকে আরাম পাওয়া যায়। জয়েন্টের ব্যথার হাত থেকে নিরাময় পেতে সর্ষের তেলে পরিমাণ মত কর্পূর মেশান। তেল টা গরম করে ঠাণ্ডা হতে দিন। এবার সেই তেল দিয়ে মালিশ করুন। আরাম পাবেন।