করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল বুধবার চীনে এক লাফে মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এর আগে মৃতের সংখ্যা দুই সংখ্যার মধ্যে থাকলেও এবার এক দিনেই ২৪৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার আটশ ৪০ জন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

সম্প্রতি হুবেই প্রদেশসহ বিভিন্নস্থানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পদচ্যুতির খবর শিরোনামে এসেছে। তবে, ওই কর্মকর্তাদের চাকরি একেবারেই চলে গেছে নাকি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। যদিও, গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সঠিকভাবে বণ্টন না করার অভিযোগ রয়েছে পদচ্যুতদের বিরুদ্ধে।

এদিকে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত এক করে নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নার্স থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা। একটানা মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী পরে থাকার কারণে তাদের করুণ চেহারার ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে।

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছে চীনের সেনাবাহিনী। অনেকটাই ভুতুড়ে পরিস্থিতি তৈরি হওয়া চীনের রাস্তায় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছে সে দেশের পুলিশ। মাস্ক কিংবা সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া বাইরে কাউকে দেখতে পেলেই তারা বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে মরদেহ সৎকারের জন্য বিনিদ্র রজনী পার করছে সৎকারকর্মীরা। লোকবল সঙ্কট এবং সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব সত্ত্বেও একটানা কাজ করে যাচ্ছে  তারা। অনেকেরই ঠিক মতো নাওয়া-খাওয়া হচ্ছে না। মরদেহ সৎকারের ফাঁকে একটু জিরিয়ে নিয়েই কাজে লেগে যেতে হচ্ছে তাদের।

তবে কাদের মরদেহ সৎকার হচ্ছে, তাদের পরিচয়ের ব্যাপারে তারা কিছুই জানে না। হাসপাতাল থেকে মুড়িয়ে দেওয়া দেহ সৎকারকর্মীরা পুড়িয়ে ফেলছে।

করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। কোভিড-১৯ নামক এই ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হতে অন্তত দেড় বছর লেগে যেতে পারে।