যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়িয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা। তারা বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার যত বেশি আসবেন, নৌকার জয়ের সম্ভাবনা ততই বেশি। প্রতিপক্ষ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র করছে। তারা হামলা-ভাংচুর করতে উসকানি দেবে। সব ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে থেকে প্রচার-প্রচারণার কাজ করতে হবে।

হামলার ঘটনাকে ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে তাপস বলেন, শুরু থেকেই লক্ষ্য করছিলাম কোনোভাবেই যেন নির্বাচনটা না হয় সেজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে যত ধরনের চেষ্টা ছিল তা তারা চালিয়ে আসছে। শুরু থেকেই তাদের প্রচারণায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দেখা গেছে। এ ব্যাপারে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে।

বিএনপি প্রার্থীর হাতে অস্ত্র ছিল- এমন অভিযোগ যেহেতু আসছে সেহেতু বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার দাবি জানাবেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে শেখ তাপস বলেন, সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রচলিত আইনে যে ব্যবস্থাই হোক সেটা নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত গ্রহণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

গণসংযোগকালে ব্যারিস্টার তাপস ‘করোনাভাইরাস’ ঠেকাতে আগাম ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমি অনুরোধ করব, যারা চীনে যাতায়াত করেন তারা যেন সতর্ক থাকেন, যাতে করোনাভাইরাস ঢাকা বা বাংলাদেশে না আসে। একইসঙ্গে আমি অনুরোধ করব, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকে, পাশাপাশি যেন তারা আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তাপস বলেন, আধুনিক ও সচল ঢাকা গড়?তে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সেই সঙ্গে ঐতিহ্যের ঢাকা, আধুনিক ঢাকা, উন্নত ঢাকা ও সচল ঢাকা গড়তে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা অচল ঢাকাকে সচল হিসেবে গড়ে তুলব। সেখানে নির্দিষ্ট সড়কে নির্দিষ্ট যানবাহন চলাচল করবে। কিছু সড়ক থাকবে যেখানে শুধু ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করবে। আর কিছু সড়ক থাকবে শুধু মানুষের হাঁটার জন্য। আর কিছু সড়কে ভারি যান এবং হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।

বিরোধী প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে প্রভাব বিস্তারের কিছু নেই। একজন প্রার্থী হিসেবে তারা যে সুবিধা পাচ্ছেন আমিও একই সুবিধা পাচ্ছি। আমরা হেঁটে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।

এর আগে সকাল থেকেই মায়াকানন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব ম?হিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল ও নানা স্লোগানে তারা মুখর করে তোলেন আশপাশের এলাকা। গণসংযোগকালে স্থানীয় কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীরা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

‘নগরবাসীকে সেবা দিতে হটলাইন চালু করা হবে’ জানিয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে নগরবাসীকে সুসংহত সেবা দিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হটলাইন সেবা থাকবে। পাঁচ কার্যদিবসের দু’দিন মেয়রের সঙ্গে নগরবাসী সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পাবে এবং দু’দিন মেয়র সরাসরি নগরবাসীর কাছে যাবেন। যদি হটলাইন ও নগর ভবনে বসে কোনো সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে প্রয়োজনে নগরবাসীর যত কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় সেই ব্যবস্থাই থাকবে।

উত্তরে আতিকুল ইসলামের প্রচারণা : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটারদের কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়ে আসতে হবে। কেননা যত বেশি ভোটার আসবেন তত বেশি নৌকায় ভোট পড়বে। এদিন বিকালে রাজধানীর মিরপুরে ৬০ ফিট থেকে গণসংযোগ শুরুর আগে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি এ আহ্বান জানান।

আতিকুল ইসলাম বলেন, যে পরিমাণ মানুষ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, এতে নিশ্চিত করে বলা যায় ১ ফেব্রুয়ারি নৌকার বিজয় হবে। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার জন্য ভোট চাইবেন। ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের নিয়ে আসতে হবে। যত বেশি ভোটার আসবে, নৌকায় ভোট তত বেশি পড়বে। প্রত্যেকেই যেন ভোট দিতে আসেন সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এসময় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিন সকালে ‘সুস্থ ঢাকা, সচল ঢাকা আর আধুনিক ঢাকা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আতিকুল ইসলাম।

এদিন বিকালে মনিপুর বয়েজ স্কুল থেকে গণসংযোগ শুরু করে বড়বাগ বাজার, হক ব্রাদার্স, পূর্ব মনিপুর কাঁঠালতলা, ও পীরেরবাগে গণসংযোগ করেন আতিকুল ইসলাম। সন্ধ্যায় ঢাকা পুলিশ কনভেনশনের হলের পাশে মহানগর উত্তর কেন্দ্রীয় মন্দিরে মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় তিনি রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এজন্য সেন্সরের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থান ট্র্যাকিং করা হবে। নগরীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বহুতল ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। রাতে মোহাম্মদপুরের টাউন হল মার্কেটে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে অংশ নেন আতিকুল ইসলাম। এছাড়া তার সহধর্মিণী ডা. শায়লা সাগুফতা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমার স্বামীর জন্য আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। আপনারা উন্নয়নের পক্ষে নৌকায় ভোট দিয়ে আমার স্বামীকে জয়যুক্ত করবেন।