মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগের জন্য অনুমোদন দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র।

গত এপ্রিলে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বকেয়া দাবি করে গ্রামীণফোনকে এবং ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা দাবি করে রবিকে নোটিস পাঠায় বিটিআরসি। টাকা পরিশোধের জন্য অপারেটর দুটিকে দুই সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়।

বিটিআরসি থেকে তখন বলা হয়, গ্রামীণফোন ও রবির সর্বশেষ অডিটের পরে এ ডিমান্ড লেটার পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিটিআরসি গত ৪ জুলাই অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ সীমিত করে দেয়।

এরপর এ আদেশ প্রত্যাহার করে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেওয়া বন্ধ করা হয়। এরপরও অপারেটর দুটি সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় গত ৫ সেপ্টেম্বর কেন অপারেটর দুটির লাইসেন্স বাতিল হবে না,তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শাও নোটিস পাঠায় বিটিআরসি।

যদিও টাকার ওই অঙ্ক নিয়ে আপত্তি রয়েছে গ্রামীণফোন ও রবির। বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় দুই অপারেটর যায় আদালতে। এ পরিস্থিতিতে বিরোধ মীমাংসায় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, বিটিআরসি এবং দুই অপারেটরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দুই দফা বৈঠকেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এখন প্রশাসক নিয়োগের পথে এগোচ্ছে সরকার; অর্থাৎ কোম্পানি দুটির মাথায় একজন করে সরকারি কর্মকর্তা বসিয়ে দেওয়া হবে।

প্রতি অপারেটরে প্রশাসকসহ চারজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক। তিনি বলেন, ‘একজন প্রশাসকের সঙ্গে হিসাব, আইন ও টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা পাওনা আদায় বিষয়ে সহযোগিতা করবে।’

সরকারি কর্মকর্তারাই প্রশাসক পদে নিয়োগ পাবেন কি জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নেব এবং যোগ্যদের এ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।’ তাহলে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ফলাফল কী তা, জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণফোন ও রবি তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। গত ৩ অক্টোবর তাদের সঙ্গে শেষ বৈঠক হয়েছিল। সাত দিনের মধ্যে রবি ২৫ কোটি এবং গ্রামীণফোনের ১০০ কোটি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবি ১৫ কোটি টাকার পে-অর্ডার নিয়ে এলে আমরা অ্যালাও করিনি। এক মাস পরপর এভাবে ২৫ কোটি ও ১০০ কোটি দেওয়ার কথা ছিল। মিটিংয়ে রাজি হলেও তারা সাড়া দেয়নি।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সমাঝোতার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। গ্রামীণফোন ও রবিতে প্রশাসক নিয়োগে বিটিআরসি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়েছিল, মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিটিআরসি এটা ফরমুলেট করবে। প্রশাসক কাকে নিয়োগ করা হবে, সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ নেব। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘রবির কাছে বেসিক এমাউন্ট ৫০৮ কোটি টাকার মধ্যে বলেছি ২৫ কোটি টাকা দাও। আর জিপির কাছে দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ১০০ কোটি টাকা চেয়েছি। তারা সাড়া দেয়নি। আমরা এটুকু বুঝতে চাই যে তোমরা টাকা দিতে ইচ্ছুক, এ ইচ্ছা প্রকাশের জায়গায়ও তারা আসেনি। তাহলে ১৯৯৭ সাল থেকে শুরুর করে এখন পর্যন্ত বকেয়া পাওয়ার কোনো ভরসা পাইনি। আমাদের টাকা না দিয়ে লাভ করে টাকা নিয়ে যাবে, এটা হতে পারে না।’