সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ভারত তথা বিশ্ব ক্রিকেটে এক প্রভাবশালী নাম। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড’র (বিসিসিআই) সভাপতির দায়ত্ব পালন করছেন। চলতি বছর এ দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল তার রাজনৈতিক জীবনে পদচারণার গল্প। আলোচনা ও গুঞ্জন শোনা যায়, তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন থেকেই প্রার্থী হচ্ছেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে।

কান পাতলেই শোন যাচ্ছে, আগামী ২০২১ সালে অনুষ্ঠেয় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন সৌরভ। গেল মাসে বিজেপির সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার নিজ বাড়িতে সৌরভের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রাজনৈতিক ও ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, অরুণ জেটলির মৃত্যুর পর ভারতের ক্রিকেট এখন অমিত শাহর দখলে। ফলে সৌরভকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সামলানো এখন অমিতের জন্য সহজ।

মুম্বাইয়ে অমিতের সঙ্গে ঐ বৈঠক প্রসঙ্গে সৌরভকে সাংবদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছুই নয়। আমাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু বলেননি।’ বিজেপি সভাপতিকে প্রশ্ন করা হয়, সৌরভের সঙ্গে কোনো ‘চুক্তি’ হয়েছে কি-না। জবাবে অমিত জানান, এমন কথা বলা মানে সেটা সৌরভের জন্য অপপ্রচার। কিন্তু বলতে ভুললেন না- ‘ভারতের যে কোনো নাগরিককেই বিজেপিতে স্বাগত।’

এদিকে সৌরভ বিসিসিআই প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ পেয়েছেন সচিবের দায়িত্ব। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

তবে বিজেপির একাংশ বলেছে, এর আগেও নাকি দল সৌরভকে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সৌরভ রাজি হননি। সব দলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক চান তিনি- এমনটাই দাবি বিজেপির ওই নেতাদের। তবে অমিত শাহর বক্তব্য এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিজেপি যোগ নিয়ে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। এই রাজ্য থেকে লোকসভা নির্বচনে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করতে আগ্রহী বলে শোনা গিয়েছিল। সৌরভের মন্ত্রীত্ব নিয়েই ছড়িয়েছিল গুঞ্জন। যদিও সেই সব জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছিলেন সৌরভ স্বয়ং।

এদিকে টানা তিন বার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষমতায় আছে মমতার দল তৃর্ণমূল কংগ্রেস। চলতি বছরের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ২৩ আসনে, বিজেপি ১৮ আসনে এবং কংগ্রেস ১ আসন। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ওই রাজ্যে জয়ী হলো মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস।

এর আগের দুটি নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে। ২০১১ সালে কয়েক দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। এছাড়া ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে মমতার দল পায় ৩৪টি আসন।

১৯৭০-এর দশকে অত্যন্ত অল্প বয়সে কংগ্রেস (আই) দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মজীবনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় কংগ্রেস নেত্রী রূপে পরিচিত হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেস (আই)-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন।
সেই সময় তিনি ছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ সাংসদের অন্যতম। এই সময় তিনি সারা ভারত যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকও মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালের কংগ্রেস-বিরোধী হাওয়ায় তিনি তার কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন। কিন্তু ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে পুনরায় সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪ ও ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও উক্ত কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

১৯৯৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস স্থাপন করেন।