পুরুষশাসিত সমাজের পরতে পরতে নানাভাবে হয়রাণি ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় নারীদের। যদিও শিক্ষার বিস্তারে এই হার কিছুটা কমেছে, তবে এখনো বিকৃত মানসিকতার পুরুষরা ওত পেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু, বৃদ্ধ, এমনকি মানসিক রোগীও। এজন্য প্রতিনিয়ত সংবাদপত্রের পাতায় ভেসে উঠছে শিশু ধর্ষণের খবর। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠছে ৭০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। প্রায় দেড় যুগ আগে বাগেরহাটের মংলায় ‘মিনু পাগলী’ নামে পরিচিত মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় পথে-ঘাটে দিন-রাত কাটানো এ নারীর কোলে ছিল একটি ফুটফুটে শিশু। মায়ের মৃত্যুর পর পিতৃপরিচয়হীন সেই শিশুটির কী হয়েছে তা কেউ জানে না। এমন অসংখ্য ঘটনা আমাদের চারপাশে ঘটছে।

এমনই একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক সুমন্ত আসলাম। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন:

“দু’টো অন্যরকম ঘটনা দেখেছি আজ। কিন্তু সে দু’টোকে পাশ কেটে তৃতীয় ঘটনাটা এমন ধাক্কা মারল বুকে, স্থির হয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ।

রাস্তার পাশে জ্যামে আটকে আছে বাস। শ্যাওড়াপাড়ার বিটপী বিল্ডিংয়ের সামনে হঠাৎ একটা মেয়ের চিৎকার। পাগলী গোছের। গায়ে আধ ময়লা পোশাক। অকথ্য ভাষায় মৃদু পায়ে হেঁটে যাওয়া ছেলেটার দিকে ধেয়েও যাচ্ছে বারবার। কিছুটা নীরব রাস্তা। হঠাৎ পাশে পড়ে থাকা আধলা একটা ইট নিয়ে ছেলেটার মাথায় আঘাত করল সে। কিন্তু সেটা লাগল পিঠে। দৌড়ে পালাল ছেলেটা।

মেয়েটা আবার চিৎকার শুরু করল। তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘মানুষ খালি আমার গায়ে হাত দ্যায় ক্যা?’

প্রশ্নটা কি আমাকে করল? না, টের পেলাম – প্রশ্নটা স্রষ্টাকে করেছে সে। না হলে বারবার আকাশের দিকে তাকাবে কেন সে!

খুব ইচ্ছে ছিল – স্রষ্টার উত্তরটা শোনার। কিন্তু দুর্ভাগ্য – ছেড়ে দিল বাসটা!”