ব্রণ উঠা প্রতিটি মানুষের একটি সাধারণ ও বিরক্তিকর সমস্যা। সাধারণত ১৩-২৫ বছর বয়সী মানুষের এই সমস্যা সব থেকে বেশি দেখা যায়। এছাড়া এর বেশি বয়সের মানুষদেরও এই সমস্যা হয়ে থাকে। বিভিন্ন কারণে মানুষের ব্রণ হতে পারে। তবে এর মধ্যে, বয়ঃসন্ধিকালিনভাবে, বংশগত কারণে, খাবার ও ঘুমের অনিয়ম, অপরিষ্কার জনিত কারণ, টেনশন ইত্যাদি সকল কারণে ব্রণ হয়ে থাকে। এই ব্রণ থেকে মুক্তি লাভের অনেক উপায় আছে। আর এই উপায় গুলি অনুসরণ করলে ব্রণ খুব তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যায়। দেখে নেওয়া যাক, ব্রণ থেকে মুক্তি লাভের উপায়গুলিঃ

নিমপাতা ও হলুদের ব্যবহারঃ

নিমপাতা ও হলুদে এমন সব উপাদান আছে, যা ব্রণ তাড়াতে খুবই কার্যকর। কয়েকটি নিমপাতা ভাল করে পানিতে ধুয়ে তা বেটে নিয়ে এর সাথে ১ চিমটি হলুদের গুড়া মিশিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভাল করে ফেসওয়াস দিয়ে ধুয়ে ব্রণের উপর মিশ্রণটি লাগিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে। এরপর সকালে মুখ ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে এটি প্রতিদিন করতে হবে। যতদিন ব্রণ না ভাল হয়।

অ্যাালোভেরা জেলের ব্যবহারঃ

ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি দিনের যেকোন সময় করা যেতে পারে। বাজারে বিভিন্ন অ্যালোভেরা জেল পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যালোভেরা জেল ব্রণ। ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটি সপ্তাহে ৭ দিনই করতে হবে।

চন্দন কাঠের গুড়ার ব্যবহারঃ

চন্দন কাঠের গুড়া ঘষে ঘষে পেস্ট করে ব্রণের জায়গায় ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ফেসওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে যেহেতু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে, যা ব্রণ ভাল করতে খুবই উপকারী। এটাও প্রতিদিন করা যেতে পারে যেকোন সময়।

ফেসপ্যাকের ব্যবহারঃ

১/২ চামচ মুলতানী মাটি পাউডার, ১/২ চামচ নিমপাতা বাটা, ১ চিমটি গুড়া হলুদ, ১ চামচ গোলাপজল একটি বাটিতে নিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর এটি মুখে মেখে ২০ মিনিট রেখে দিয়ে ভাল করে ঠান্ডা পানি দিতে ক্লিন করে নিতে হবে। এটি গোসলের আগে সপ্তাহে ৩ দিন করতে হবে।

গ্রীনটির ব্যবহারঃ

একটি গ্রীন টির টি ব্যাগ ১ কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে টি বের করে নিতে হবে। এরপর এই পানির সাথে ২-৩ ড্রপ টি ট্রি এসেনশিয়াল ওয়েল মশিয়ে এই মিশণটি একটি আইসকিউবে রেখে ফ্রজে আইস করে সেই আইস প্রতিদিন ব্রণের উপর ম্যাসাজ করতে হবে। ধীরে ধীরে ব্রণ গায়েব হয়ে যাবে।

ব্রণ হলে যা যা করা যাবে নাঃ

ব্রণে বার বার হাত দেওয়া যাবেনা।

ব্রণ টিপে টিপে শাস বেরে করা যাবে না।

দুঃচিন্তা করা যাবেনা। মনে রাখতে হবে ব্রণ সবারই হয়। সুতরাং এটি নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগা যাবে না। মনে রাখতে হবে, ব্রণ কখনোই এক রাতে ভাল হয় না। ধীরে ধীরে ভাল হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরতে হবে।

রাত জাগা যাবে না।

অপরিষ্কার থাকা যাবে না। সবসময় পরিষ্কার পরিছন্ন থাকতে হবে। ব্যবহৃত গামছা বা টাওয়াল পরিষ্কার রাখতে হবে।

মুখে কখনোই সাবান ব্যবহার করা যাবে না। সব সময় মুখ ধুতে ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া মুখে সবসময় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

এমন কোন খাবার খাওয়া যাবে না, যা হজমে সমস্যা করে।

অলসতা পরিহার করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। দৈনিক ৩০ মিনিট হাটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।