মেয়ে পরকীয়া করায় মেয়েকে গুলি করে মারলেন বাবা। এরপর আবার নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের জয়সিংপুরে।

চন্দ্রমোহন সিং নামক এক ব্যক্তির মেয়ে স্বাতীর বিয়ে হয়েছিল কানপুরের নগেন্দ্র সিংয়ের সাথে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই ঐ মেয়েকে বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পরেও স্বাতী তার আগের প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ রকম সময় চন্দ্রমোহন সিং রেগে গিয়ে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে হত্যা করেন তার নিজ মেয়েকেই। এরপর অবশ্য তিনি নিজেই পুলিশের কাছে যেয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

চন্দ্রমোহন সিং পুলিশের কাছে এসে বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি তার মেয়েকে কানপুরে অনেক ধুমধামের সাথে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মেয়ের শ্বসগুর বাড়ি থেকে একের পর এক অভিযোগ শুনতে হয় তাকে। মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি, তার মেয়ে বিয়ের পর থেকেই তার পূর্ব প্রেমিকের সাথে পরকীয়া করছে। তারা আর তার মেয়েকে রাখবে না। তাই তারা ঘটনার দিন তার মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে এসে গল্ডগোল শুরু করে। এ সময় চন্দ্রমোহন সিং তার মেয়েকে তার প্রেমিকের কাছ থেকে ফিরে আসতে অনেক বুঝায়। কিন্তু মেয়ে কোনোভাবেই নিজের সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানতে রাজি হয়নি। এর এক পর্যায়ে নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক থেকে মেয়ের বুকে তিনটি গুলি চালান চন্দ্রমোহন। ঘটনাস্থলেই মেয়ে মারা যায়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, মেয়েকে হত্যার পর চন্দ্রমোহন পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কল করেন। কিন্তু পুলিশ আসতে দেরি হলে, নিজেই স্কুটার চালিয়ে থানায় হাজির হন তিনি। চন্দ্রমোহনের দাবি- মেয়েকে নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এরপর পুলিশ তৎক্ষণাৎ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য চন্দ্রমোহনের মেয়ে স্বাতীর লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সময় ব্যবহৃত চন্দ্রমোহনের লাইসেন্স করা বন্দুকটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে খোঁজ মিলছে না স্বাতীর মা ও ভাইয়ের। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।