মোবাইল ফোন প্যান্টের পকেটে রাখলে পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।বিশেষ করে পুরুষের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের পুরুষদের ওপর করা ৪০ বছরের গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া যায়।

গবেষণা দলের প্রধান ড: হ্যাগাই লেভিন বিবিসিকে বলেন, এভাবে স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকলে একসময় মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

এ সম্পর্কে মুগ্দা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার মনিলাল আইচ লিটু বলেন, মোবাইল ফোন রেডিয়েশন তৈরি করে। এই রেডিয়েশন শ্রবণশক্তি নষ্ট করে। মোবাইল ফোনে একটানা ৫ মিনিট কথা বললে আবার ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে কথা বলা উচিত। তাতে যে রেডিয়েশন কানে বা মস্তিষ্কে যায় তা আবার
স্বাভাবিক হলেই কথা বলতে হবে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে কান ঠিক থাকবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল রেডিয়েশনে মুখের লালাগ্রন্থি ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া হার্ট সমস্যা ও কানে কম শোনার প্রবণতা বাড়ছে। কানে শো শো শব্দ এসব মোবাইল রেডিয়েশন থেকেই হচ্ছে।

ডা. মনিলাল আইচ বলেন, মোবাইল ফোন বুক পকেট বা প্যান্টের পকেটে রাখা যাবে না। বুকে রাখলে হার্টের ক্ষতি হবে। আর প্যান্টের পকেটে রাখা যাবে না, কারণ পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বা শুক্রাণু উৎপন্ন কমে যাবে। আবার মহিলাদেরও প্যান্টের পকেটে রাখা ঠিক না, কারণ তাদের ওভারি প্যান্টের পকেটের কাছেই থাকে, সেজন্য তারাও সেই রেডিয়েশনের কবলে পড়বে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি হেড ফোন বা ব্লুটুথ ব্যবহার করা হয় তাহলে রেডিয়েশনের প্রভাব থেকে অনেকটাই সুরক্ষা পাওয়া যাবে বলে জানান ডা. মনিলাল আইচ। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে ল্যান্ডফোন ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন তিনি। আর মোবাইল ফোন হাতে বহন করা সবচেয়ে ভালো, যদি সম্ভব না হয় তাহলে ব্যাগে নিতে পরামর্শ দেন এই ইএনপি বিশেষজ্ঞ।

লোকালয়ে মোবাইল ফোন টাওয়ার বসানো ইউরোপ আমেরিকায় আগে থেকেই নিষিদ্ধ। তবে সম্প্রতি ভারতেও লোকালয়ে মোবাইল ফোন টাওয়ার বসানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উন্নত বিশ্বে এখন মোবাইল ফোনসেট বিক্রির সাথে তার একটি ব্যবহারবিধিও দিয়ে দেয়া হচ্ছে।