ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে নীলক্ষেত্রে দেখা করে মীমাংসার প্রস্তাব ও হুমকির যে তথ্য বা অভিযোগ, সেটা কেউ প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বি’শ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।বৃ’হস্পতিবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ডাকসুর সাবেক ভিপি তার বি’রুদ্ধে আসা ছা’ত্রীর অ’ভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘোষণা দেন।

এর আগে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ধর্ষণের অ’ভিযোগে মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অ’ভিযোগে ভিপি নুরসহ অপর ৫ আসামিকে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে উ’ল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর অভিযোগ, চলতি বছরের ২৪ জুন নুরসহ কয়েকজন তার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা করেন বিষয়টি সমাধারে জন্য। তবে ফেসবুক লাইভে সে কথা অ’স্বীকার করেছেন নুর।

লাইভে ভিপি নুর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের আশপাশে কিংবা নীলক্ষেত এলাকায় সিটি টিভির ফুটেজ রয়েছে। পাশে নিউমার্কেট থানা রয়েছে। তো, এই একটা তথ্য যদি প্র’মাণ করতে পারেন, আমি নী’ক্ষেত্রে ২৪ জুন ওই মেয়ের সঙ্গে দেখা করেছি বা বিষয়টি মী’মাংসার ব্যা’পারে কথা বলেছি, তাহলে আমি সমস্ত অ’ভিযোগ মাথা পেতে নেবো। আমি রা’জনীতি থেকে সরে দাঁড়াবো এবং নিজেকে অ’পরাধী বলেই মনে করবো ও আমার শু’ভা’কা’ঙ্ক্ষীদেরও বলবো।’

তিনি বলেন, ‘ওই মেয়েকে যারা চেনেন বা সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোক আছেন, তারা একটি বিষয় খালি প্র’মাণ করুক যে, মেয়েটির সঙ্গে আমরা ২৪ তারিখ মী’মাংসার জন্য নীল’ক্ষেত্রে বসেছি এবং সেখানে আমি উ’পস্থিত ছিলাম কিংবা সেখানে আমরা তাকে হুমকি দিয়েছি। এটা যদি প্র’মাণ করতে পারেন, দ্যাটস এনাফ।

‘মেয়েটি পুলিশের কাছে অ’ভিযোগ করেছে, পুলিশ এজা’হারভুক্ত করেছে। আমি জানি না, পুলিশ আসলে কোন তথ্য-প্র’মাণের ভিত্তিতে এটাকে এজা’হারভুক্ত করলো? প্র’শ্ন রাখেন নুর।

ফেসবুক লাইভে তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো জানি, আমি অপরাধী কিনা। এখনও সত্য কথা বলছি, নিজের বুকে জোর আছে। এই মেয়ের সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনও ক’থাবার্তা হয়নি। আমি তাকে হুমকিও দিইনি। আমি কোনও অপরাধ করিনি।’

এদিকে গেল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ করে ধ’র্ষণ, ধর্ষ’ণে সহায়তা ও হে’য়প্রতিপন্ন করে ডিজিটাল মাধ্যমে অ’পপ্রচার চালানোর অ’ভিযোগে একই ব্যক্তিদের আসামি করে ডিএমপির কতোয়ালি থানায় আরেকটি মা’মলা করেন ওই ঢাবি ছাত্রী।

লালবাগ থানায় করা মামলায় ভিপি নুর ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন (২৮), যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮), একই সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) ও ঢাকা বি’শ্ব’বি’দ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি (২৩)।কোতোয়ালি থানায় করা মা’মলায় নাজমুল হাসান সোহাগ ১ নম্বর ও হাসান আল মামুনকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। দুটি মামলাতেই নুরকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এরইমধ্যে মা’মলার প্রধান আ’সামি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে গেল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।লালবাগ থানায় করা মা’মলার এহাজারে বাদী উ’ল্লেখ করেন, ‘আসামি হাসান আল মামুন ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র। তিনি আমার ডি’পার্টমেন্টের বড় ভাই এবং বাংলাদেশ ছাত্র অ’ধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সুবাধে আমার সঙ্গে পরিচয় হয়।’

এহাজারে আরও বলা হয়, ‘২০১৮ সালের ২৯ জুলাই আসামি আমার বিভাগের সিনিয়র হওয়ায় তার সঙ্গে ব্য’ক্তিগত স’ম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে আ’সামির স’ঙ্গে আমার প্রে’মের স’ম্পর্ক তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় আসামির স’ঙ্গে আমার বিভিন্ন সময়ে ম্যা’সেঞ্জার, ইমো, হো’য়াটসঅ্যা’পের মাধ্যমে কথোপকথন হয়। সেখানে আসামি আমাকে শারী’রিক সম্পর্কের ই’ঙ্গিত দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসামি গত ৩ জানুয়ারি আনুমানিক দুপুর ২টায় তার বাসা নাবাবগঞ্জ বড় মসজিদ এলাকায় যেতে বলে এবং আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় ধ’র্ষণ করে।’

ভু’ক্ত’ভোগী বিবাদী এ’জাহারে আরও বলেন, ‘ঘটনার পর গত ৪ জানুয়ারি আমি অ’সুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ জানুয়ারি আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় মামুনের ব’ন্ধু সোহাগের মাধ্যমে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি ক্যাম্পাস রিপো’র্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন ও সোহাগ তা হতে দেয়নি। এর আগে মা’মুন বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয়, কিন্তু আমি অ’সুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে।’

‘এরপর উপা’য়ান্তার না দেখে গত ২০ জুন বিষয়টি ভিপি নুরকে মৌ’খিকভাবে জানাই। সে বলে, মামুন আমার পরিষদের, আমার সহ’যোদ্ধা। তার সঙ্গে একটা সুব্যবস্থা করে দেবো। এরপর ২৪ জুন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তিনি আমার সঙ্গে নীলক্ষেত্রে দেখা করতে আসেন। কিন্তু মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নি’ষেধ করেন। আমি যদি বাড়াবাড়ি করি তাহলে তার ভক্তদের দিয়ে ফেসবুকে আমার নামে উ’ল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে বলে হুমকি দেয়। তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের ১.১ মিলিয়ন সদস্যের গ্রুপে এ প্রচারণার হুমকি দেয়া হয়। নুর আরও জানায়, তার একটি লাইভে আমার সব ‘সম্মান চলে যাবে। ইতোমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে। তারা ম্যাসেঞ্জারে চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।’

মা’মলার এজাহারে ওই ছাত্র আরও বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা পর্যায়ের কয়েকজন বিষয়টির সু’ষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে চাইলেও আসামিরা তাদের ষ’ড়য’ন্ত্রকারী বলে আখ্যা দেয়। এরপর আমি শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আ’ত্মী’য়স্বজনদের স’ঙ্গে কথা বলে মা’মলা করায়; মা’মলা করতে বি’লম্ব হয়েছে।’’