ঘুম শরীরের জন্য খুবই দরকারি একটি জিনিস। পরিমিত ঘুম শরীরকে চাঙ্গা করে পরবর্তী দিনের কাজের জন্য মানুষের শরীরকে তৈরী করে থাকে। একজন মানুশের প্রতিদিন ৮-৯ ঘন্টা ঘুমানো দরকার। অনেকেই এই গুরত্বপূর্ণ ঘুমের সমস্যায় ভুগে থাকেন।

ঘুমের সমস্যা মানুষের অবসাদ ও ক্লান্তি তৈরী করে কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। ঘুমের সমস্যায় অনেকেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকে। তবে বেশি ঘুমের ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে হিতে বিপরীত হয়ে যায়।

পরিমিত ও প্রয়োজন অনুসারে ঘুম না হলে মানুষের যে সকল সমস্যা হয়, তা হল-

# কোন কিছু একেবারেই ভুলে যাওয়া।

# মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।

# ক্রিয়েটিভিটি একেবারে কমে যাওয়া।

# ক্যান্সার, ডায়বেটিস, হৃদরোগ সহ নানারকম রোগে ভোগা।

কিভাবে খুব সহজেই ঘুম আসবে তা জানতে হলে নিচে পড়ুন-

#টিপসঃ১

আপনার যখন রাতে ঘুম আসবে না, তখন বিছানা থেকে উঠে যান। ঘুম না আসলে অনেকেই বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকে, যা মোটেও ঠিক নয়। তাই এই সময় বিছানা থেকে উঠে ২০-৩০ মিনিট এমন কিছু করতে হবে, যাতে শরীর অনেক ক্লান্ত হয়ে যায়। তবে যেই টাই করা হোক না কেন তা আলোর মধ্যে করা যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

#টিপসঃ২

ঘুমানোর ৫ ঘন্টা আগে চা বা কফি খাওয়া যাবে না। কারণ এগুলোতে থাকা ক্যাফেইন ঘুমের প্রচুর ব্যাঘাত ঘটায়।

#টিপসঃ৩

ঘুম না আসলে হালকা গরম পানিতে গোসল করা যাতে পারে। কারণ এটি করলে শরীর শিথিল হবে আর তখন ঘুমাতে গেলে তৎক্ষণাৎ ঘুম চলে আসবে।

#টিপসঃ৪

প্রতিদিন নিয়ম করে ১ ঘন্টা ব্যায়াম করতে হবে। কারণ এতে শরীরে ক্লান্তি বেড়ে যায়। আর ঘুমের জন্য শারীরিক ক্লান্তি অতি জরুরী। প্রয়োজনে যোগ ব্যায়াম করা যাতে পারে। আর সন্ধ্যার পর ব্যায়াম করলে সবচেয়ে ভাল হয়।

#টিপসঃ৫

যে ঘরে ঘুমানো হয়, সেই ঘরটি সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর এটাও খেয়াল রাখতে হবে সে ঘর যেন শব্দযুক্ত না হয়। সেই ঘরে যেন কোন প্রকার আলো না আসে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা যাতে আরামদায়ক হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

#টিপসঃ৬

ভালো ঘুমের জন্য ও ঠিক সময়ে ঘুমানোর জন্য নিজেকে একটি রুটিনের মধ্যে আনতে হবে। যেমন খাওয়া, ঘুম, কাজ, বিনোদন, খেলাধুলা, ব্যায়াম সবকিছু নির্দিষ্ট সময়ে করতে হবে। প্রতিদিন রাত ১১ টার মধ্যে ঘুমের অভ্যাস করলে প্রতিদিন ঠিক ঐ সময়েই ঘুম চলে আসবে, যা ভাল ঘুম হতে সাহায্য করবে। কারণ ঘুমাতে বেশি রাত হলে আর ভাল ঘুম হবার সম্ভাবনা থাকে না।

#টিপসঃ৭

রাতে ঘুমানোর অন্তত ২ ঘন্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে। অবশ্যই পরিমিত খাবার খেতে হবে। আর ঘুমাতে যাবার পূর্বে বেশি পানি পান করা যাবে না।ঘুমের পূর্বে চিনি, মসলা ও চর্বি জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে।

#টিপসঃ৮

দুপরে অধিক সময় ধরে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে ও প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট শরীরে রোদ লাগাতে হবে। কারণ দিনে বেশি আলো ও রাতে বেশি অন্ধকারের মধ্যে থাকলে শরীরে মেলাটোনিন ক্ষরণ ভালো হয়, যা তাড়াতাড়ি ঘুম আসতে সাহায্য করে।

#টিপসঃ৯

ঘুমের অন্তত ১ ঘন্টা আগে টিভি, মোবাইল, কম্পিউটার ইত্যাদির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

#টিপসঃ১০

একটি গ্লাসে ১ গ্লাস গরম দুধ নিয়ে তাতে ১ চামচ মধু, ১/৮ ভাগ লবণ, ১ চামচ নারিকেল তেল ভালভাবে মিশিয়ে সেটি ঘুমের ৩০ মিনিট আগে খেতে হবে। এই পানীয় খেলে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসবে। কারণ এই পানীয় দুঃচিন্তা, ও রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। আর গ্লাইকোজেন সরবরাহ করে বলে খুব ভাল ঘুম হয়।

#টিপসঃ১১

ডিপ ব্রেথিং এর মাধ্যমেও খুব তড়াতাড়ি ঘুম আনা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বিছানায় বসে দুইটি চোখ বন্ধ করতে হবে। এরপর ৪ সেকেন্ড ধরে নাক দিয়ে ভিতরে শ্বাস নিতে হবে। এরপর ৭ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ধরে রাখতে হবে। এরপর ৮ সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে সেই নিঃশ্বাস ছাড়তে হবে। এভাবে ৫-১০ মিনিট করতে হবে।